সি++ প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ টিউটোরিয়াল [পর্ব ৩] ভেরিয়েবল

সি++ প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ টিউটোরিয়াল [পর্ব ৩] ভেরিয়েবল

C++প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে অনেক জটিল ধরনের হিসাব-নিকাশ করা যায়। আর এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ভেরিয়েবল, যা হাই লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

সি++ প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ টিউটোরিয়াল [পর্ব ৩] ভেরিয়েবল

ভেরিয়েবল


কমপিউটার জটিল কাজ করে হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে। যেমন-এমন একটি প্রোগ্রাম লেখা হলো, যার কাজ হবে দুটো সংখ্যার যোগফল বের করা। তাহলে প্রোগ্রামে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে হবে। এখন এই নির্দেশ কিভাবে দেয়া হবে তা নির্ভর করে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের ওপর। কোনো সংখ্যা নিয়ে কাজ করার জন্য প্রথমে সেই সংখ্যাকে কমপিউটারের মেমরিতে রাখতে হবে। অর্থাৎ কমপিউটারের হিসাব করা পদ্ধতিটা এরকম যে, প্রথমে মেমরিতে ১ সংখ্যাটি রাখা হলো।

তারপর মেমরির আরেক জায়গায় ২ সংখ্যাটি রাখা হলো। এবার সংখ্যা দুটির যোগফল বের করে সেই যোগফল মেমরির আরেক জায়গায় রাখা হলো। এবার যদি ইউজার চায় যে যোগফলটি প্রিন্ট করবে অর্থাৎ মনিটরে দেখানো হবে তাহলে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে সেটা করা যাবে। অথবা ইউজার চাইলে অন্য কোনো কাজও করতে পারেন। কিন্তু যে সংখ্যাগুলো মেমরিতে রাখা হলো, এই কাজটি অতটা সোজা নয়।

কমপিউটারের র্যা ম হলো প্রধান মেমরি এবং এখানেই কমপিউটার সব ডাটা রাখে এবং তা ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করে। র্যামমে অসংখ্য মেমরি সেল থাকে এবং এই সেলগুলোই হলো মেমরির গঠনগত একক। প্রতিটি সেলেরই একটি নির্দিষ্ট অ্যাড্রেস থাকে। সংখ্যাগুলো এসব নির্দিষ্ট সেলে রাখা হয়। এখন যে সংখ্যাগুলো মেমরিতে রাখা হচ্ছে এর মূল পদ্ধতি হলো প্রথমে প্রোগ্রামে একটি সংখ্যা ডিক্লেয়ার করে তার জন্য একটি নির্দিষ্ট অ্যাড্রেস নির্ধারণ করে দেয়া। কিন্তু এই কাজটি অত্যন্ত ঝামেলাপূর্ণ, কেননা র্যাযমে লাখ লাখ মেমরি সেল থাকে।

এই ঝামেলা দূর করার জন্য যে জিনিসটি ব্যবহার করা হয় তা হলো ভেরিয়েবল, যা হাই লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজের একটি বৈশিষ্ট্য।

যেমন- সি-তে যদি a, b, c নামের তিনটি ভেরিয়েবল ডিক্লেয়ার করা হয় তাহলে প্রোগ্রাম নিজ থেকেই এই তিনটি ভেরিয়েবলের জন্য মেমরিতে আলাদা জায়গা নির্ধারণ করে দেবে। তখন ইউজারের কাজ হবে খালি এই ভেরিয়েবলের জন্য মান নির্ধারণ করে দেয়া। ব্যাপারটা আরেকটু সহজে বলা যায়, কোনো ভেরিয়েবল a ডিক্লেয়ার করার মানে হলো প্রোগ্রাম যেকোনো একটি মেমরি সেল নির্বাচন করবে এবং সেই সেলটির নাম দেবে a। এখানে ইউজারকে আর কষ্ট করে অ্যাড্রেস নিয়ে কাজ করতে হবে না।

ভেরিয়েবলের নামকরণ


প্রোগ্রামে প্রয়োজনানুসারে এক বা একাধিক ভেরিয়েবল ডিক্লেয়ার করা যায় এবং ইউজার সেই ভেরিয়েবলের নাম নিজের ইচ্ছেমতো দিতে পারেন। কিন্তু এই নামকরণে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়।

যেমন- কোনো ভেরিয়েবল ডিক্লেয়ার করার সময় চারটি দিক সবসময় খেয়াল করতে হবে।

০১. কোনো ভেরিয়েবলের প্রথম অক্ষর কখনও কোনো সংখ্যা হতে পারবে না।

০২. ভেরিয়েবলের নামে underscore (_) এবং dollar sign ($) ছাড়া অন্য কোনো বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করা যাবে না।

০৩. ভেরিয়েবলের নামের মাঝে কোনো ফাঁকা জায়গা থাকতে পারবে না অর্থাৎ ভেরিয়েবলের নাম সবসময় একটি শব্দ হতে হবে।

০৪. সি-তে কোনো keyword-এর নাম ভেরিয়েবলের নাম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এখানে keyword কি, তা আমরা পরে জানতে পারব। উদাহরণ হিসেবে integer_type, auto_key, var1 ইত্যাদি ভেরিয়েবলের নাম হতে পারে।

Share This Post

Post Comment