ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট বনাম ডেস্কটপ কম্পিউটার

ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট বনাম ডেস্কটপ কম্পিউটার

ডেস্কটপ কম্পিউটারের চাহিদা ফুরোয়নি। অফিস, বাসা আর বড় বড় কাজের জায়গায় ডেস্কটপ কম্পিউটার আছে বেশ শক্ত অবস্থানেই। পেটমোটা সিআরটি মনিটরের বদলে পাতলা এলসিডি বা এলইডি মনিটর এখন শোভা পায় ডেস্কটপের সঙ্গে।
প্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নয়নে ডেস্কটপ আরও শক্তিশালী হয়েছে। ঘরোয়া ব্যবহার, বিনোদন, ইন্টারনেট আর অফিসের কাজে স্থির এই কম্পিউটার সত্যিই কাজের। বড় সুবিধা হলো চাইলে গ্রাহক ইচ্ছামতো ডেস্কটপের ক্ষমতা বাড়াতে পারেন।

রায়ানস আইটি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক এস এম আরিফুজ্জামান বলেন, ‘আসলে ঘরে ও অফিসে ভালো একটি ডেস্কটপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটু ভালো প্রসেসর যেমন কোর আইথ্রি হলে ভালো হয়। এ ছাড়া ছবি ও ভিডিও সম্পাদনাসহ গ্রাফিকসের কাজ আর গেম খেলার জন্য কোর আই ফাইভ বা সেভেন প্রসেসর ব্যবহার করা যেতে পারে।’

গেম খেলার জন্য উচ্চক্ষমতার প্রসেসর, মাদারবোর্ড ব্যবহার করা ভালো। বিশেষ গেমের চাহিদা অনুযায়ী আবার আলাদা করে গ্রাফিকস কার্ডও লাগাতে হয়। আরিফুজ্জামান বললেন, ‘শিশুদের কম্পিউটার শেখা ও ব্যবহারের জন্য ডেস্কটপ বেশি ভালো। টিভি কার্ড লাগিয়ে টেলিভিশন দেখাসহ ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য সাধারণ মানের ডেস্কটপই যথেষ্ট।’

একটি সাধারণ ডেস্কটপ
বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সমন্বয়ে তৈরি হয় একেকটা ডেস্কটপ কম্পিউটরর। প্রসেসর, মাদারবোর্ড, ১৫.৬ ইঞ্চি এলইডি মনিটর, ২ গিগাবাইট র্যা ম, ৫০০ গিগাবাইটের হার্ডডিস্ক, ডিভিডি রাইটার, কি-বোর্ড, মাউস, স্পিকারসহ সাধারণ কাজের ডেস্কটপ কম্পিউটারের দাম এখন পড়ে কমবেশি ২৩ হাজার টাকা। ইন্টেলের প্রসেসর বেশি ব্যবহৃত হয় ডেস্কটপে। এছাড়া এএমডির প্রসেসরও আছে বাজারে।

উচ্চক্ষমতার ডেস্কটপ
ইন্টেল কোর আই ফাইভ ৩.২০ গিগাহার্টজ গতির প্রসেসর, ১৮.৫ ইঞ্চি এলইডি মনিটর, ৪ গিগাবাইট র্যা ম, ১ টেরাবাইট হার্ডডিস্ক, ১ গিগাবাইট গ্রাফিকস কার্ড, ডিভিডি রাইটার, কি-বোর্ড, মাউস, স্পিকার, কেসিংসহ উচ্চক্ষমতার ডেস্কটপের দাম এখন পড়ে ৫০ হাজার টাকার বেশি। এখন বাজারে সর্বোচ্চ ক্ষমতার প্রসেসর হলো কোর আই সেভেন। এর দাম ২৫ হাজার টাকা।

অল-ইন-ওয়ান পিসি
বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়ে সংযোজিত ডেস্কটপ কম্পিউটার, যা ক্লোন পিসি হিসেবে পরিচিত, সেগুলোই বেশি চলে বাজারে। কেননা এগুলো বাজেট অনুযায়ী তৈরি করে নেওয়া যায়। ক্লোন কম্পিউটারের বাইরে বিশ্বখ্যাত কম্পিউটার নির্মাতাদের তৈরি ব্র্যান্ড পিসিও পাওয়া যায়। আর এখন বাজারে আছে অল-ইন-ওয়ান কম্পিউটার।

‘এইচপি, ডেলের অল-ইন-ওয়ান পিসি এককথায় বেশ ভালো। আমাদের দেশে ইদানীং এসবের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। এর বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, একটি ডেস্কটপের জন্য একটি টেবিলের ওপরে ও নিচে যে পরিমাণ জায়গা দরকার, অল-ইন-ওয়ান পিসির ক্ষেত্রে ততটা লাগে না। টেবিলে আমরা শুধু একটি মনিটর দেখি। আর এর মনিটরের পেছনের অংশের সঙ্গেই পাওয়ার, হার্ডডিস্ক, প্রসেসর, র্যা মসহ সবকিছুই বসানো থাকে।’ অল-ইন-ওয়ান পিসিতে টাচস্ক্রিন থাকে। এগুলোর দাম ৩২ থেকে ৬১ হাজার টাকা।

অ্যাপল ম্যাকিন্টোশ
গ্রাফিকস, ডেস্কটপ পাবলিশিং, ভিডিও সম্পাদনার কাজে অ্যাপল ম্যাকিন্টোশের চাহিদা রয়েছে।
দিন যত গড়াচ্ছে, ডেস্কটপ কম্পিউটারের শক্তি ও গতি দুটিই বাড়ছে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, যার যে কাজ, তার জন্য ডেস্কটপ কম্পিউটার সাজিয়ে নেওয়া যায়।

Share This Post

Post Comment