পৃথিবীতে জীবনের বীজ নিয়ে এসেছে এলিয়েনরা

পৃথিবীতে জীবনের বীজ নিয়ে এসেছে এলিয়েনরা
ব্রিটেনের গবেষকেরা একটি ক্ষুদ্র, গোলাকার বস্তু নিয়ে গবেষণা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, এটি হতে পারে এমন একটি অণুজীব যা এলিয়েনরা পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার করার জন্য পাঠিয়েছিলো।

এই বস্তুটির আকৃতি ছবিতে দেখতে যত বড়ই মনে হোক না কেন, এটি আসলে মোটামুটি মানুষের একটি চুলের প্রস্থের সমান। ইউনিভার্সিটি অফ বারমিংহামের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাস্ট্রোবায়োলজিস্ট মিল্টন ওয়াইনরাইট এবং তার গবেষক দল বেলুনের মাধ্যমে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে ভেসে বেড়ানো ধুলা ও পোকামাকড় সংগ্রহের সময়ে এই বস্তুটি সংগ্রহ করে।

মানুষের চুলের প্রস্থের সমান এই গোলকের পৃষ্ঠে রয়েছে প্রাণ এবং এর ভেতরে রয়েছে এক ধরণের চটচটে জৈবিক পদার্থ। এর একটি ব্যাখ্যা হলো, কোনো অজানা সভ্যতা পৃথিবীতে এই বস্তুটি পাঠায় পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার করার জন্য। এই থিওরিটি প্রকৃতপক্ষে আসে একজন নোবেল বিজয়ী গবেষকের কাছ থেকে। ফ্রান্সিস ক্রিকের উপস্থাপিত এই থিওরি হলো “ডিরেক্টেড প্যানস্পার্মিয়া”। শুনতে সায়েন্স ফিকশনের মতো হলেও ফ্রান্সিস ক্রিকের কাছ থেকে আসা বলেই এই থিওরিকে ঠিক উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

প্যানস্পার্মিয়া থিওরি অনুযায়ী, জীবনের এমন সব “বীজ” মহাবিশ্বের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করতে থাকে ধূমকেতু অথবা উল্কায় সওয়ার হয়ে। ডিরেক্টেড প্যানস্পার্মিয়া থিওরি অনুযায়ী, ধূমকেতু বা উল্কায় ভর করে নিতান্ত ভাগ্যক্রমে পৃথিবীতে প্রাণের এই বীজ আসেনি, বরং অন্য কোনো গ্রহের কোনো এক বুদ্ধিমান প্রাণী ইচ্ছাকৃতভাবে পৃথিবীতে এই বীজ স্থাপন করে। তবে যখন এই থিওরি প্রস্তাব করা হয় তখন একে প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট উন্নত প্রযুক্তি ছিলো না। ১৯৭৩ সালে এই প্রস্তাব করার চার দশক পর কতিপয় গবেষকের একটি দল দাবি করেন শ্রীলংকায় পতিত এক উল্কাপিন্ডে তারা খুঁজে পেয়েছেন জৈবিক ফসিল।

তবে এ থিওরির ক্ষেত্রে অনেকেই সন্দেহ পোষণ করেন। শ্রীলংকায় পতিত উল্কাপিন্ডে যে আসলেই জৈবিক ফসিল ছিলো, তা বিশ্বাস করতে চান না অনেকে। কিন্তু ওয়াইনরাইট যে ক্ষুদ্র বস্তুটি আবিষ্কার করেন, তার আশেপাশের অবস্থা দেখে বোঝা যায় এই বস্তুটি “ক্র্যাশ” করেছিলো এর ওপর। উল্কাপাতের ফলে যেমন গর্ত তৈরি হয় তেমনই ক্ষুদ্র একটি গর্ত তৈরি করে এই বস্তুটিও। তবে এটি কি আসলেই মহাকাশ থেকে আসা প্রাণের বীজ কি না, তা জানার জন্য এখনো অনেক অপেক্ষার প্রয়োজন। কারা এই বীজ পাঠিয়েছিলো তার ব্যাপারে জানা না গেলে এর ব্যাখ্যা প্রমাণ করা যাবে না কখনোই।

Share This Post

Post Comment