টাইটানে থাকতে পারে মিথেন-ভিত্তিক প্রাণের অস্তিত্ব

টাইটানে থাকতে পারে মিথেন-ভিত্তিক প্রাণের অস্তিত্ব
পানির অস্তিত্ব ছাড়া জীবনের অস্তিত্ব থাকতে পারে না- এ ধারণা ভুলে যাবার সময় হয়েছে এখন। গবেষকেরা বলছেন, মিথেনের ওপর ভিত্তি করেও প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে।

পৃথিবীর বেশিরভাগ জীবেরই দেহকোষে রয়েছে পানি-ভিত্তিক ফসফোলিপিড বাইলেয়ার। এগুলো কোষের ভেতরে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং বাইরের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে রক্ষা করে আমাদের কোষগুলোকে। কিন্তু সম্প্রতি কম্পিউটার মডেলের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, অক্সিজেন-মুক্ত পরিবেশেও মিথেন-ভিত্তিক কিছু কোষের অস্তিত্ব থাকতে পারে এবং এ কারণেই মিথেনের ওপর নির্ভরশীল জীবনের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ভিনগ্রহের প্রাণী খুঁজতে গিয়ে প্রথমেই খোঁজ করেন এমন এলাকা যেখানে পানি থাকতে পারে। এর জন্য সূর্যের আশেপাশে খুব পরিমিত একটি এলাকার ওপরেই কেবল দৃষ্টিপাত করা হয়। কিন্তু যদি প্রাণের ভিত্তি পানি না হয়ে মিথেন হয়, তবে শনি গ্রহের প্রচন্ড শীতল চাঁদ টাইটানেও তা থাকতে পারে। এই চাঁদে রয়েছে তরল মিথেনের অনেকগুলো সাগর আর পানি-ভিত্তিক জীবন থাকার মতো কোনো অক্সিজেন পাওয়া যায় না এখানে। তাই এখানে প্রাণ থাকলে তা হবে মিথেন-ভিত্তিক।
কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে কর্নেল ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা তৈরি করেন অক্সিজেন-মুক্ত, মিথেন-ভিত্তিক জীবকোষের ছাঁচ। পানির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ফসফোলিপিড বাইলেয়ারের ঝিল্লিকে বলা হয়ে থাকে লাইপোজোম। কিন্তু এক্ষেত্রে গবেষকেরা নাইট্রজেনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ঝিল্লিকে নাম দেন অ্যাজোটোজোম। এর উপাদান হলো নাইট্রোজেন, কার্বন এবং হাইড্রোজেন। সাধারণ দেহকোষের ঝিল্লির সাথে এর পার্থক্য হলো তা ভীষণ শীতল পরিস্থিতিতেও মিথেন আদান-প্রদান করতে পারে কোষের ভেতরে ও বাইরে।

গবেষকেরা বলেন, তারা জীববিজ্ঞানী নন, জ্যোতির্বিজ্ঞানীও নন। কিন্তু তাদের হাতে গবেষণার উপযুক্ত তথ্য ছিলো বলেই তারা এই সিদ্ধান্তে পৌছাতে সক্ষম হন। তাঁদের অনুপ্রেরণা ছিলো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক আইজ্যাক আজিমভ। এই গবেষণার পরবর্তী পর্যায়ে তারা দেখতে চান মিথেন ভিত্তিক এই জীবকোষে বংশবিস্তার এবং বিপাক কি করে ঘটতে পারে।

Share This Post

Post Comment