প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ সি/সি++ টিউটোরিয়াল [পর্ব ১]

প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ সি/সি++ টিউটোরিয়াল [পর্ব ১]

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং স্ট্যান্ডার্ড প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ হলো ‘সি/সি++ প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ’। এর জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সি দিয়ে অনেক সহজে বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধান করা যায়। তাছাড়া অনেক আধুনিক ল্যাঙ্গুয়েজের (যেমন-জাভা) ভিত্তি হলো সি।  সর্বপ্রথম ডেনিশ রিচি এই ল্যাঙ্গুয়েজটি উদ্ভাবন করেন। ল্যাঙ্গুয়েজটি ইউনিক্স অপারেটিং সিসটেমে লেখা হয় এবং পরে সি দিয়েই নতুন করে ইউনিক্স লেখা হয়। তবে সি-এর আগেও একটি ল্যাঙ্গুয়েজ ছিল, যার নাম BCPL বা সংক্ষেপে বি। সি হলো এই বি-এর উন্নততর ভার্সন। পরে সি-এর আরো কিছু ভার্সন বের হয়েছে। যেমন- সি++, সি# ইত্যাদি।

c++

সাধারণত তিন রকমের ল্যাঙ্গুয়েজ দেখা যায়। যেমন-হাই লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ (Ada, Pascal ইত্যাদি), মিড লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ (C/C++) এবং লো লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ (Assembly)। সি-কে মিড লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ বলার বিশেষ কারণ আছে। এমন নয় যে এটি হাই লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ থেকে কম শক্তিশালী। বরং সি একদিকে যেমন লো লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজের মতো বিট, বাইট, অ্যাড্রেস ইত্যাদি মৌলিক উপাদান নিয়ে কাজ করতে পারে, তেমনি হাই লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজের মতো বিভিন্ন ডাটা স্ট্রাকচার নিয়েও কাজ করতে পারে। তাই একে মিড লেভেল বলা হয়। তাছাড়া সি-এর পোর্টেবিলিটি অনেক বেশি, অর্থাৎ এক অপারেটিং সিস্টেমে লেখা প্রোগ্রাম অন্য অপারেটিং সিস্টেমে সহজে কনভার্ট করে চালানো যায়। এ কারণেই সি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

কিছু প্রাথমিক ধারণা


সি-তে প্রোগ্রাম লিখতে হলে কিছু প্রাথমিক ধারণার প্রয়োজন। প্রথমেই কনস্ট্যান্ট, ভেরিয়েবল এবং ফাংশন সম্পর্কে জানা যাক। কনস্ট্যান্ট হলো এমন একটি প্রতীক, যা দিয়ে একটি নির্দিষ্ট মান প্রকাশ করা হয় এবং মানটি কখনই পরিবর্তন করা যায় না। ভেরিয়েবল হলো এমন একটি প্রতীক, যা দিয়ে কোনো মান প্রকাশ করা যায় এবং মানটি পরিবর্তন করা যায়। ফাংশন হলো এমন কিছু উপাদানের সেট, যেই উপাদানগুলোর ওপর কোনো শর্ত আরোপ করা যায়। যেমন-A যদি একটি ফাংশন এবং এর উপাদান যদি (1,3,5,7…) হয় তাহলে এর উপাদানের ওপর আরোপিত শর্ত হলো (x=2n+1;n= পূর্ণ সংখ্যা)।

আইডিই (IDE)


যেকোনো ধরনের টেক্সট ফাইলে কোড লিখে প্রোগ্রামের সোর্স ফাইল তৈরি করা যায়। সে ক্ষেত্রে ফাইল ফরমেট .txt থেকে .c বা .cpp তে নিতে হবে। তবে বিভিন্ন কোম্পানি (বোরল্যান্ড, মাইক্রোসফট ইত্যাদি) তাদের নিজস্ব কিছু বিশেষ ধরনের এডিটর বের করেছে। এদের IDE (Integrated Development Environment) বলে। অনেক সময় এদের কম্পাইলারও বলে। এসব IDE ব্যবহার করলে কিছু বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। জনপ্রিয় কয়েকটি IDE হলো Turbo C++, Microsoft Visual C++ ইত্যাদি। নতুনদের জন্য TC বা টার্বো সি ভালো। ইন্টারনেটে TC পাওয়া যায়। এটি c:\ ড্রাইভে কপি করতে হয়। আর IDEটি চালাতে c:\TC\BIN\TC.EXE চালাতে হবে।

Share This Post

Post Comment