অর্থনীতি

৬০ দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপ, ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্য কৌশলে দীর্ঘস্থায়ী শুল্কযুদ্ধের আশঙ্কা

২৬ জুলাই ২০২৬
৬০ দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপ, ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্য কৌশলে দীর্ঘস্থায়ী শুল্কযুদ্ধের আশঙ্কা
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন পুরনো বাণিজ্য আইনের ভিত্তিতে ৬০ দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপ করেছে, যা দীর্ঘস্থায়ী শুল্কযুদ্ধের ইঙ্গিত দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে দ্রুত শুল্ক আরোপের মাধ্যমে বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে তাঁর আগ্রাসী শুল্কনীতি অবৈধ ঘোষিত হলে প্রশাসনটি নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। এবার তারা ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ নম্বর ধারার ওপর ভরসা করে স্থায়ী শুল্কব্যবস্থা গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে।

জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি রোধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে ৬০টি দেশের পণ্যে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় জানিয়েছে, এই নতুন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশের ওপর প্রযোজ্য হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল শুরু; আগামী কয়েক মাসে আরও একাধিক শুল্ক তদন্ত ও পদক্ষেপের ঘোষণা আসতে পারে।

এর আগে কার্যকর থাকা ১০ শতাংশ শুল্ক গত শুক্রবার শেষ হয়েছে। এর পরিবর্তে ৩০১ ধারার আওতায় নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা ও মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন বিষয়ে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপানসহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। কানাডার এক আইন উপদেষ্টা জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির বড় অংশ পুরোপুরি কার্যকর হবে।

শুল্ক থেকে সরকারি কোষাগারে শত শত বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসলেও, আদালতের রায়ের পর আমদানিকারকদের অর্থ ফেরত দিতে হওয়ায় সেই হিসাব ঋণাত্মক হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার স্পষ্ট করে বলেছেন, উৎপাদন দেশে ফিরিয়ে আনা এবং বাণিজ্যঘাটতি কমাতে প্রশাসন সব ধরনের আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করবে। যদিও আইনি হাতিয়ার বদলেছে, কিন্তু বাণিজ্যকৌশল অপরিবর্তিত রয়েছে।

শুল্কট্রাম্পবাণিজ্যমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রআমদানি