১০ লাখের লোভে কিডনি বিক্রি, হাতে মিলল মাত্র ৫০ হাজার

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দিনমজুর মন্টু মিয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। স্থানীয় দালাল চক্রের লোভ দেখিয়ে তাঁকে জানানো হয়, একটি কিডনি দিলে নগদ ১০ লাখ টাকা পাওয়া যাবে। চরম আর্থিক সংকটে পড়ে মন্টু মিয়া এই প্রস্তাবে রাজি হন।
গত জানুয়ারি মাসে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর মন্টু মিয়ার পাসপোর্ট তৈরি করে প্রথমে ভারতে এবং পরে নেপালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর একটি কিডনি কেটে নেওয়া হয়। দেশে ফেরার পর বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাইলে দালাল চক্র তাঁকে ভয়ভীতি দেখায় এবং টাকা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে।
এই প্রতারণার শিকার হয়ে মন্টু মিয়া ১৩ জুন জয়পুরহাটের আমলি আদালত-৫-এ ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরদিন ১৪ জুন কালাই থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। মামলার আসামিদের মধ্যে বগুড়া, শিবগঞ্জ, জয়পুরহাট ও নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকার ব্যক্তিরা রয়েছেন।
কালাই থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনের আওতায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অপরাধীদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে। অন্যদিকে, কিডনি হারানোর পর মন্টু মিয়া মারাত্মক শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন এবং পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।