হবিগঞ্জে হামলায় এনসিপির লিখিত অভিযোগ, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি

হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ার পর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে তারা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এ লিখিত অভিযোগ হস্তান্তর করেন। গত মঙ্গলবার এনসিপির গাড়িবহরে হামলা ও কর্মীদের মারধরের ঘটনায় এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার অভিযোগ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফাঁড়ি সূত্রে জানা যায়, লিখিত অভিযোগটি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে। এতে হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তারেক রুবেলকে বাদী করা হয়েছে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ জমা দেওয়ার সময় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ জমা দেওয়ার পর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের নিরপেক্ষতা প্রমাণের স্বার্থেই রাতের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে দেশ আবারও আগের মতো মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সাথে তিনি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক আচরণ ও পুরোনো স্বৈরাচারী পথে হাঁটার অভিযোগ তোলেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে 'জুলাই পদযাত্রা' শেষে এনসিপির বহরে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে এনসিপি এবং স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। বুধবার বিকেলে শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও এলাকায় এনসিপির বহর আটকে দিলে তারা সড়কে অবস্থান নেন। পরে ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দিয়ে রাত পৌনে ৯টার দিকে এনসিপি নেতারা মৌলভীবাজারের দিকে চলে গেলে মহাসড়কের দীর্ঘ যানজট স্বাভাবিক হতে শুরু করে।