সেউতা সীমান্তে অনধিকার প্রবেশ: মরক্কোর বিরুদ্ধে স্পেনের তোপ

উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ ছিটমহল সেউতায় হাজার হাজার মানুষের অনধিকার প্রবেশকে ঘিরে চরম কূটনৈতিক ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। প্রায় ৮৪ হাজার জনসংখ্যার এই ছোট্ট শহরে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ প্রবেশ করেন। যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৮,৩০০ জনকে মরক্কোতে ফেরত পাঠিয়েছে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেউতার স্থানীয় নেতা খোয়ান হেসুস ভিভাস এই ঘটনাকে ভয়াবহ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, এটি কোনো সাধারণ অভিবাসন সংকট নয়; বরং স্পেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর আক্রমণ। তিনি মরক্কো সরকারের বিরুদ্ধে এই ঘটনায় উসকানি বা অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
মরক্কো সীমান্ত থেকে নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ায় এই বিপুল সংখ্যক মানুষ স্প্যানিশ ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ে। স্থানীয় মর্গে ইতোমধ্যে ৮৮ জনের মরদেহ পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন ভিভাস। স্প্যানিশ গোয়েন্দা সংস্থার মতে, সমুদ্রপথে আসা মানুষদের সঙ্গে সঙ্গে ফেরত পাঠানো যাবে না—এমন একটি ভুয়া খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মরক্কোর সীমান্ত পাহাড়া শিথিল হয়ে যায়। এর আগে ২০২১ সালের মে মাসে কূটনৈতিক বিরোধ চলাকালে দুদিনে ১০ হাজার মানুষকে সেউতায় ঢুকতে দিয়েছিল মরক্কো।
সীমান্ত পার হয়ে সেউতায় আসা বহু মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে ও মসজিদের পাশে দিন কাটাচ্ছেন। ২৮ বছর বয়সী মরক্কোর নাগরিক আশরাফ জানান, মরক্কো পুলিশ তাদের পানিতে ধাক্কা দিয়ে সাঁতরাতে বাধ্য করেছিল এবং লাশের ওপর দিয়ে সাঁতরে তাকে আসতে হয়েছে। অন্যদিকে অনেক পরিবার তাদের নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে বেড়াচ্ছে। ১৩ ও ১৬ বছরের দুই সন্তানকে হারিয়ে এক মা তাদের ছবির পোস্টার নিয়ে রাস্তায় ঘুরছেন।
এই ঘটনা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরেও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কিছু দেশ ফ্রি-মুভমেন্ট এলাকা থেকে স্পেনকে স্থগিত করার দাবি জানালে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খোসে মানুয়েল আলবারেস ইইউর পূর্ণ একাত্মতা দাবি করেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন স্পেনের পদক্ষেপের প্রশংসা করে সীমান্ত ব্যবস্থা আরও জোরদার করার কথা বলেছেন।