অর্থনীতি

সরকারের ব্যাংকঋণ সর্বকালের সর্বোচ্চ, বেসরকারিতে রেকর্ড ধস

৮ আগস্ট ২০২৬
সরকারের ব্যাংকঋণ সর্বকালের সর্বোচ্চ, বেসরকারিতে রেকর্ড ধস
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের ব্যাংকঋণ সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা হলেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি কমে রেকর্ড ৪.৪৭ শতাংশে নেমেছে।

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের ব্যাংকিং খাতে এক বিপরীতমুখী চিত্র ফুটে উঠেছে। একদিকে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকায় পৌঁছে সর্বকালের রেকর্ড গড়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে গত জুন শেষে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪.৪৭ শতাংশে, যা এই খাতের ইতিহাসেই সর্বনিম্ন।

সরকার মূল ও সংশোধিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ছাপিয়ে এই বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছে। যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকার ব্যাংক থেকে ৭৬ হাজার ১২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল, সেখানে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা করে ঋণ নেওয়া হচ্ছে। বিপরীতে করোনার মতো সংকটের মধ্যেও যেখানে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে ছিল, তা এখন নামতে নামতে তলানিতে ঠেকেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে নীতি সুদহার কমিয়ে ৯.৫০ শতাংশ করা এবং আমানত ও ঋণের সুদের ব্যবধান ৪ শতাংশে নামানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মতে, ব্যবসার প্রতিকূল পরিবেশ, গ্যাস-বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা ও উচ্চ সুদহারের কারণে বিনিয়োগ থমকে আছে। তাদের মতে, সরকার এভাবে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে থাকলে ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণ পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

ব্যাংক ঋণবেসরকারি খাতঅর্থনীতিবাংলাদেশ ব্যাংক