রাজনীতি

সরকারে থাকতেও বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-হত্যা, ক্ষোভে তৃণমূল

৩১ জুলাই ২০২৬
সরকারে থাকতেও বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-হত্যা, ক্ষোভে তৃণমূল
বিএনপি সরকারে আসার পরও দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বাড়ায় তৃণমূলে উদ্বেগ। মানবাধিকার সংস্থার তথ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ক্ষমতায় আসার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা ও হত্যাকাণ্ড ঘটায় দলের তৃণমূলে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজধানী ঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও খুলনায় সংঘটিত কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে যে, সরকারে থাকার পরও নিজ দলের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক উদ্যোগে কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কিনা।

সাম্প্রতিক সময়ে দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। গত ২১ জুলাই রাজধানীর সবুজবাগে ওয়ার্ড বিএনপির কর্মী ইব্রাহিম পলাশকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে ১৫ জুলাই কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম (জাহাঙ্গীর) নিজ বাসার সামনে হামলায় নিহত হন, যেখানে পুলিশ ভাড়াটে হামলাকারীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে। এছাড়া ১২ জুন খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম গাজীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।

মানবাধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে ১১৯টির বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক নিহত এবং ১ হাজার ৫৮৫ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সহিংসতার প্রায় ৯৪ শতাংশই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলে সংঘটিত হয়েছে। শিল্পাঞ্চলভিত্তিক এলাকায় ঝুট ও স্ক্র্যাপ ব্যবসা, বালুমহাল, অটোরিকশা স্ট্যান্ড এবং পশুর হাটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বও সহিংসতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দলের নেতাদের মন্তব্য বিভিন্ন ধরনের। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিন্টু ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করেন এবং অসতর্কতার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে জানান। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার বলেন, ১৭ বছর আন্দোলন করতে গিয়ে মার খেয়েছেন, এখন সরকার গঠনের পরও মার খাচ্ছেন, যা অত্যন্ত কষ্টের। অন্যদিকে, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দাবি করেন, এসব ঘটনার অধিকাংশই ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট, রাজনৈতিক কারণে নয় এবং প্রতিটি ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী জানান, দল বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করছে।

বিএনপিহামলা-হত্যাতৃণমূলনিরাপত্তারাজনৈতিক সহিংসতা