রাজনীতি

সরকারি সংস্থায় দলীয় নেতাদের নিয়োগে উদ্বেগ, পুনর্বাসনকেন্দ্র বানানো যাবে না

১৪ আগস্ট ২০২৬
সরকারি সংস্থায় দলীয় নেতাদের নিয়োগে উদ্বেগ, পুনর্বাসনকেন্দ্র বানানো যাবে না
বিএনপি সরকারে সরকারি সংস্থা ও কর্পোরেশনের শীর্ষ পদে দলীয় নেতাদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে লেখক দাবি করেছেন, এগুলো রাজনৈতিক পুনর্বাসনকেন্দ্র হতে পারে না।

বাজেটে জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ উন্নয়ন খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও ৩৫০টির বেশি সরকারি সংস্থার যৌক্তিকতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন সংস্কার কমিটি। অতীতে এসব সংস্থাকে সরকারঘনিষ্ঠ আমলাদের পুনর্বাসনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো, যার ফলে সেগুলো স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়।

বিএনপি সরকার গঠনের পর সরকারি সংস্থা ও জেলা পরিষদের শীর্ষ পদে দলীয় নেতাদের নিয়োগ উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রথম আলোর খবরে জানা যায়, ১১টি সরকারি এবং ৭টি নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের শীর্ষ পদে নিয়োগপ্রাপ্ত নেতারা দল ও সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেননি। সরকারি সংস্থার প্রধান পদ জনপ্রতিনিধির পদ নয়, তাই দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে এই দায়িত্ব পালন করা আইনত ও নীতিগতভাবে সমস্যাযুক্ত।

বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, বিএনপি কি যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পয়েল সিস্টেম’ অনুসরণ করছে? উল্লেখ্য, ১৮৮৩ সালে পেন্ডলটন অ্যাক্টের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এই ব্যবস্থা বর্জন করে মেধাভিত্তিক নিয়োগ চালু করেছিল, কারণ দলীয় আনুগত্যের ওপর ভিত্তি করে নিয়োগ দুর্নীতি ও অদক্ষতা বাড়ায়।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের মধ্যে পার্থক্য মুছে ফেলা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে তুলেছিল। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বর্তমান নিয়োগ সেই প্রতিশ্রুতির বিরোধী।

লেখক মনে করেন, দলীয় আনুগত্য বা ত্যাগের পরিমাণ সরকারি পদের নিয়োগের মাপকাঠি হতে পারে না। সরকারি সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক নেতাদের পুরস্কারের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। বিএনপিকে জনপ্রত্যাশা ও নিজ ইশতেহারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে।

বিএনপিজনপ্রশাসন সংস্কারসরকারি নিয়োগদলীয় নেতাস্পয়েল সিস্টেম