সঞ্চয়পত্র থেকে মাত্র ৪৩৬ কোটি টাকা নিট ঋণ, লক্ষ্য ১২ হাজার ৫০০ কোটি

২০২৫‑২৬ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও সরকার মাত্র ৪৩৬ কোটি টাকার নিট ঋণ সংগ্রহ করতে পেরেছে।
নিট ঋণ বলতে সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ থেকে আগের সঞ্চয়পত্রের মূল ও মুনাফা পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থকে বোঝায়।
সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার চিত্র গত কয়েক বছরে দুর্বল। টানা তিন অর্থবছর এই খাত থেকে সরকার কোনো নিট ঋণ নিতে পারেনি। ২০২৫‑২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও পরে তা কমিয়ে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার করা হয়।
মাসভিত্তিক হিসাবেও ওঠানামা দেখা গেছে। প্রথম চার মাসে নিট বিক্রি ইতিবাচক ছিল, তবে নভেম্বরে ২৯৩ কোটি টাকার ঋণাত্মক, জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকার ঋণাত্মক, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ১৬৫ কোটি টাকার ঋণাত্মক এবং মার্চে ২ হাজার ১৩৫ কোটি টাকার ঋণাত্মক ছিল। এপ্রিল থেকে ইতিবাচক হয়ে ২ হাজার ২৬০ কোটি টাকার নিট বিক্রি হয়।
এর ফলে সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণস্থিতি কমছে। ২০২১‑২২ অর্থবছর শেষে এই ঋণ ৩ লাখ ৬৪ হাজার ১০ কোটি টাকায় ছিল, এখন তা প্রায় ৩ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকায় নেমেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলেন ব্যাংক খাতে আস্থার ঘাটতি, শেয়ারবাজারের অনিশ্চয়তা এবং সঞ্চয়পত্রের সুদহারের কমে যাওয়ার আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে প্রভাবিত করেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির মাঝেও সঞ্চয়পত্রকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৬‑২৭ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণের লক্ষ্য আরও কমিয়ে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকার করা হয়েছে, যদিও সুদহার কমানোর আশঙ্কা থাকলেও সরকার আগামী ছয় মাস তা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন বাজেটে সঞ্চয়পত্রের করের সুবিধা সীমিত করা হয়েছে, মুনাফায় ১০% উৎসে কর কাটা হবে কিন্তু তা চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য হবে না।
বিশ্লেষকরা বলেন সঞ্চয়পত্র শুধু সরকারের ঋণের উৎস নয়, মধ্যবিত্ত, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, শিক্ষক, চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও গৃহিণীদের নিয়মিত আয়েরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমে গেলে সরকারের ঋণের উৎস সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ের সুযোগও কমে যেতে পারে।