রাষ্ট্র সংস্কারে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: ইফতেখারুজ্জামান

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়েছিল, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তা প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্কার কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সংস্কার কমিশনগুলোর সুচিন্তিত প্রতিবেদন এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি মজবুত নীতিগত ভিত্তি তৈরি হলেও, তা পূর্ণাঙ্গ বাস্তব রূপ দিতে সক্ষম হয়নি সরকার।
ইফতেখারুজ্জামান জানান, গণ-অভ্যুত্থানের পর বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনের তিন এজেন্ডা নিয়ে সরকার কাজ শুরু করে। রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে প্রথমে ছয়টি এবং পরবর্তীতে আরও পাঁচটি কমিশন গঠন করা হয়। তবে এসব কমিশনে নারী, আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব ছিল সীমিত। এছাড়া শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে সংস্কার কমিশনের আওতাবহির্ভূত রাখার বিষয় নিয়েও প্রশ্ন ছিল। তা সত্ত্বেও অংশীজনদের মতামত নিয়ে কমিশনগুলো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত দলিল প্রস্তুত করেছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যেসব সুপারিশ প্রশাসনিকভাবে বা নির্বাহী আদেশে অবিলম্বে বাস্তবায়ন সম্ভব ছিল, সরকার সেগুলোর কেবল একটি ক্ষুদ্র ও প্রতীকী অংশ গ্রহণ করেছে। ক্ষমতা কাঠামোর পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত সুপারিশগুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সংস্কারবিরোধী শক্তির তৎপরতার কারণে দ্রুত নেওয়া সম্ভব এমন উদ্যোগগুলো থমকে যায়। অন্তর্বর্তী সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হলেও, সেখানে কমিশনগুলোর প্রস্তুত করা প্রতিবেদনকে যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
আমলাতন্ত্রের প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, প্রচলিত ধারায় অধ্যাদেশ প্রণয়ন করায় নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং আমলাতন্ত্রের ওপর কার্যকর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ নষ্ট হয়েছে। কোন সংস্কার গ্রহণযোগ্য আর কোনটা নয়, তা আমলাতন্ত্রের প্রভাবশালী অংশই নির্ধারণ করেছে। বিশেষ করে দুদক অধ্যাদেশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিশনকে অন্ধকারে রেখে নির্দেশনাবলী এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করেন।