আন্তর্জাতিক

যুদ্ধের প্রস্তুতি বললো উত্তর কোরিয়া, আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের হুমকি

১৪ আগস্ট ২০২৬
যুদ্ধের প্রস্তুতি বললো উত্তর কোরিয়া, আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের হুমকি
মার্কিন-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বিহঙ্গকে যুদ্ধের প্রস্তুতি বলে আখ্যায়িত করে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

মার্কিন-দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্যোগে অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক সামরিক বিহঙ্গকে ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি’ বলে আখ্যায়িত করে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। ২০২৬ সালের ১৪ আগস্ট (শুক্রবার) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়া জানায়, এবারের বিহঙ্গ গত বছরের তুলনায় বেশি provocatibe এবং এটি অঞ্চলে নতুন ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

১৭ আগস্ট (সোমবার) থেকে শুরু হওয়ার কথা ‘আলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নামক এই সামরিক বিহঙ্গের। মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিহঙ্গ উত্তর কোরিয়ার হুমকির মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য এবং এটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক প্রকৃতির। তবে উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, এই বিহঙ্গ মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সকল সামরিক সম্পদ ও যুদ্ধের পদ্ধতি ব্যবহার করে পরিচালিত হবে, যা তারা অস্বীকার করেছে।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নতুন মাত্রার হুমকির মুখোমুখি হয়ে নতুন মাত্রার প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা আমাদের নিরাপত্তা নীতির অংশ।’ তারা যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় আইনসঙ্গত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে বলে জানিয়েছে।

গত এক সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূল থেকে দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মিসাইল উৎক্ষেপণ সম্ভবত মার্কিন-দক্ষিণ কোরিয়ার বিহঙ্গের প্রতিবাদ বা অস্ত্র ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, উত্তর কোরিয়া প্রায়শই এর শত্রুপক্ষের সামরিক বিহঙ্গকে বানিয়ে নিউক্লিয়ার ও মিসাইল অস্ত্রাগার বৃদ্ধি এবং নেতা কিম জং উনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অস্ত্র পরীক্ষা পরিচালনা করে।

২০১৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ সম্মেলন ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে কিম জং উন মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক প্রস্তাব উপেক্ষা করে নিউক্লিয়ার অস্ত্রাগার শক্তিশালী করতে মনোযোগ দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে কিম জং উন তার উন্নত নিউক্লিয়ার কর্মসূচি ব্যবহার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বড় ছাড় পাওয়ার চেষ্টা করবেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গভীর করেছেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে সৈন্য ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা গ্রহণ করছেন। পাশাপাশি বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করারও চেষ্টা করছেন তিনি।

উত্তর কোরিয়ামার্কিন যুক্তরাষ্ট্রদক্ষিণ কোরিয়াসামরিক বিহঙ্গনিউক্লিয়ার অস্ত্র