যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা স্থগিত করতেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। সোমবার বিশ্বজুড়ে তেলের বেঞ্চমার্ক 'ব্রেন্ট ক্রুড'-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৯ শতাংশের বেশি কমে ৮৮ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। অথচ গত সপ্তাহেই এই দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে ইরানের ওপর হামলা টানা কয়েক রাত বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্রও নিশ্চিত করেছেন যে তারা অঞ্চলে প্রতিশোধমূলক হামলা স্থগিত করেছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের মূল পথ 'হরমুজ প্রণালী' কার্যত বন্ধ হয়ে গেলে বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়।
এর আগে গত জুনে উভয় পক্ষ সামরিক অভিযান বন্ধ ও প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়ার সমঝোতা স্মারক সই করলে তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব ৭০ ডলারে নেমে এসেছিল। তবে চলতি মাসের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ায় আবারও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। এছাড়া লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথিদের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও সংকটকে আরও উসকে দিয়েছিল।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দাম কমলেও সমঝোতা কতদূর এগোবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে, যা শেষ পর্যন্ত খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি উসকে দিচ্ছে।