মাদক বিরোধিতায় হত্যা মামলায় প্রধান আসামির স্বীকারোক্তি, কারাগারে পাঠানো হলো

ঢাকার সূত্রাপুর এলাকায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পোশাককর্মী মিতুল ইসলামকে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি রাহিম আহম্মেদ রাফি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি রেকর্ড করার পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক সোহানুর রহমান জানান, তিনদিনের রিমান্ড শেষে বুধবার রাফিকে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে রাজি হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তা রেকর্ড করেন। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, নিহত মিতুল ইসলাম (১৮) ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটের ১৩ তলায় ফয়সাল নামে এক ব্যক্তির তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। গত ৭ আগস্ট রাত ১১টার দিকে মার্কেটের ভেতরে কয়েকজনকে মাদক সেবন করতে দেখে মিতুল ও তার সঙ্গীরা প্রতিবাদ করেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
এরপর শনিবার রাত ৮টার দিকে অভিযুক্তরা মিতুল ও তার এক সঙ্গীকে মার্কেট থেকে বাইরে নিয়ে যান। ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটের সামনে মিতুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এজাহারে বলা হয়, প্রধান আসামি রাফি কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে মিতুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড) নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা রাসেল সরদার পরদিন রোববার রাফিসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে সূত্রাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ রাফিসহ এজাহারভুক্ত ১০ আসামিকে গ্রেফতার করে। অন্য আসামিরা হলেন- মো. সাগর আহাম্মেদ, মো. রাসেল মিয়া, মো. আরিফ, মো. আশরাফুল, ফারদিন, মো. জুনায়িদ মিয়া, মো. মোস্তাকিম, মো. রোকন মিয়া ও মো. নাজমুল।
এর আগে রোববার আদালত প্রধান আসামি রাফিকে তিনদিনের এবং বাকি নয় আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠান। দুই দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার ওই নয় আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। এবার তিনদিনের রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর প্রধান আসামি রাফিকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।