জাতীয়

ব্লক রেইড ও গণগ্রেপ্তার: ২৬ জুলাই ডিবির হেফাজতে সমন্বয়করা

২৬ জুলাই ২০২৬
ব্লক রেইড ও গণগ্রেপ্তার: ২৬ জুলাই ডিবির হেফাজতে সমন্বয়করা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ব্লক রেইড পদ্ধতিতে হাজারো আন্দোলনকারী গ্রেপ্তার হন। ২৬ জুলাই হাসপাতাল থেকে তিন সমন্বয়কসহ পরবর্তীতে আরও তিনজনকে ডিবি হেফাজতে নেয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কোনো এলাকাকে ঘিরে ফেলে সব পথে অবস্থান নেওয়া এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করাকে ব্লক রেইড বলা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এই পদ্ধতিতে আন্দোলনকারীদের গণগ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৪ সালের ১৭ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত ১০ দিনে সারা দেশে অন্তত ৬ হাজার ২৬৪ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ২৫ জুলাই রাত থেকে ২৬ জুলাই দুপুর পর্যন্ত অন্তত ৭৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢালাও মামলা দেওয়ার পাশাপাশি এই গণগ্রেপ্তার অভিযান চলছিল।

২০২৪ সালের ২৫ জুলাই দিবাগত রাতে রাজধানীর শাহীনবাগ এলাকায় যৌথ অভিযান চলাকালে হেলিকপ্টার থেকে আলো ফেলায় এলাকাবাসী আতঙ্কগ্রস্ত হন। ঢাকা মহানগর পুলিশের তৎকালীন তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার এইচ এম আজিমুল হক জানিয়েছিলেন, এটি ছিল বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনার অংশ। একই দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন সমন্বয়ককে গোয়েন্দারা তুলে নিয়ে যায়। ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং তাদের দেখভালকারী আবু বাকের মজুমদারকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা হাসপাতাল থেকে হেফাজতে নেয়।

ডিবি রাত ১১টার পর তিন সমন্বয়ককে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে। এরপর দুই দিনের মধ্যে হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও নুসরাত তাবাসসুমকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি। ডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সমন্বয়কদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া তার ‘জুলাই: মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু’ বইয়ে উল্লেখ করেন, হাসপাতালে গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা তাদেরকে গৃহবন্দী করে রাখে। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে রাউটার খুলে ওয়াই-ফাই বন্ধ করা হয় এবং সব ধরনের যোগাযোগ থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন রাখা হয়।

২৬ জুলাই সকালে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে ছাত্র-জনতার ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়।

ব্লক রেইডগণগ্রেপ্তারজুলাই গণঅভ্যুত্থানডিবিসমন্বয়ক