শিক্ষা

ব্যবহারিক পরীক্ষা এখন আনুষ্ঠানিকতা, বিজ্ঞানশিক্ষা বিপন্ন

৮ আগস্ট ২০২৬
ব্যবহারিক পরীক্ষা এখন আনুষ্ঠানিকতা, বিজ্ঞানশিক্ষা বিপন্ন
এইচএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতা। অভিজ্ঞ প্রদর্শকদের পদোন্নতি, অনিয়ম এবং নম্বরবণ্টনের প্রবণতা বিজ্ঞানশিক্ষার মানকে বিপন্ন করে তুলেছে।

বাংলাদেশের বিজ্ঞানশিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে গভীর সংকটে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে এটি এখন নৈতিক অবক্ষয় ও প্রশাসনিক পঙ্গুত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি যে নিরবচ্ছিন্ন অনুসন্ধান ও পরীক্ষণ, তা আজ খাতা পূরণ ও নম্বর বণ্টনের যান্ত্রিক আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫ পাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু বিজ্ঞানের প্রকৃত আত্মা থেকে তারা দূরে সরে যাচ্ছে।

বিজ্ঞানশিক্ষার প্রকৃত পাঠশালা হলো পরীক্ষাগার। কিন্তু বর্তমানে দেশের অসংখ্য মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ল্যাবরেটরিগুলো নিথর সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে। প্রদর্শকদের প্রভাষক পদে পদোন্নতির বিধানের ফলে দক্ষ জনবলের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে সরকারি কলেজগুলোর ব্যবহারিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী জীবনে কখনো লিটমাস পেপারের পরীক্ষা দেখেনি, তবুও বোর্ড পরীক্ষায় ব্যবহারিক মূল্যায়নে ২৫-এ ২৫ নম্বর পাচ্ছেন।

মফস্সল ও উপজেলা পর্যায়ের পরিস্থিতি আরও অন্ধকার। সেখানে বছরের অধিকাংশ সময় পরীক্ষাগারে ঝুলে থাকে তালা। প্রকৃত ব্যবহারিক মূল্যায়ন না হয়ে কয়েক ঘণ্টার প্রহসনমূলক উপস্থিতির খেরোখাতায় সই করে শত শত শিক্ষার্থীকে নির্বিচার নম্বর দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিজ্ঞানশিক্ষা এক বিকৃত ‘নম্বর-অর্থনীতিতে’ রূপ নিয়েছে, যেখানে মুখস্থবিদ্যাই পরম যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

মাঠপর্যায়ের অভিযোগগুলো এই ব্যাধির গভীরতা তুলে ধরে। বহিঃপরীক্ষকদের সময়মতো রুটিন জানানো না হওয়া, অসহযোগিতা করা এবং জাল স্বাক্ষর দিয়ে খাতা বোর্ডে পাঠানো—এসব ঘটনা পরীক্ষা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মিরপুর কলেজ ও কামারপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এমন অভিযোগ উঠেছে। একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দিয়ে পরীক্ষা পরিচালনা করা এবং ‘শতভাগ সাফল্য’ টিকিয়ে রাখার চাপে ২৫-এ ২৫ নম্বর দেওয়ার প্রবণতা পরীক্ষাপদ্ধতির বিশ্বাসযোগ্যতা ধূলিসাৎ করছে।

বিজ্ঞানশিক্ষাএইচএসসিব্যবহারিক পরীক্ষাঅনিয়মশিক্ষাব্যবস্থা