বগুড়ায় রেলস্টেশনে হামলায় আহত ৭, সোনাতলা স্টেশন বন্ধ ঘোষণা

বগুড়ার সোনাতলা রেলস্টেশনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রেলওয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৭ জন আহত হওয়ার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে স্টেশনটির কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ। আকস্মিকভাবে স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, বুধবার রেলওয়ে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বগুড়া রেলওয়ে অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় সোনাতলা রেলস্টেশনের উত্তর পাশের একটি নির্মাণাধীন শৌচাগার ও রেলগেট সংলগ্ন অবৈধ ফলের দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল স্টেশনমাস্টারের কক্ষে প্রবেশ করে কর্মকর্তাদের মারধর শুরু করে এবং টিকিট বিক্রির কম্পিউটার ভাঙচুর করে। এছাড়া এক কর্মকর্তার মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় সোনাতলা রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার রবিউল ইসলাম, চুক্তিভিত্তিক স্টেশনমাস্টার আব্দুল মাজেদ, গ্রেড-২ বুকিং সহকারী মাসুম পারভেজ, পয়েন্টসম্যান সাজ্জাদুর রহমান ও সোয়াইব হোসেন, পোর্টার দুলাল হোসেন এবং উপসহকারী প্রকৌশলী শামিম আহমেদ আহত হন। তারা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী আসলাম হোসেন জানান, সোনাতলা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা। সোনাতলা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল হাসান বাবু দাবি করেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মাণাধীন স্থাপনাটি নোটিশ ছাড়া উচ্ছেদ করায় স্থানীয়দের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। অন্যদিকে সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং রেলওয়ে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করবে।