ফিল্ডস মেডেল জয় করলেন চার তরুণ গণিতবিদ, তৃতীয় নারী হংক ওয়াং

গণিতের দুনিয়ায় নোবেল পুরস্কারের সমমানের ‘ফিল্ডস মেডেল’ এ বছর পাওয়া গেছে চার তরুণ গণিতবিদের। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় ও ফ্রান্সের আইএইচইএসের হংক ওয়াং, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউ ডেং, স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন পার্ডন এবং কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যাকব জিমারম্যান এই সম্মাননা লাভ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
ফিল্ডস মেডেলের ৯০ বছরের ইতিহাসে পুরস্কারপ্রাপ্ত তৃতীয় নারী হলেন হংক ওয়াং। এর আগে ২০১৪ সালে মরিয়াম মির্জাখানি এবং ২০২২ সালে মেরিনা ভিয়াজোভস্কা এই সম্মাননা পেয়েছিলেন। হংক ওয়াং দুটি ভিন্ন গাণিতিক ক্ষেত্রের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন। তিনি তরঙ্গসদৃশ সমীকরণ ব্যবহার করে বিভিন্ন আকৃতি কীভাবে স্থান দখল করে, তা নিয়ে গবেষণা করেছেন। ২০২৫ সালে গণিতবিদ জোশুয়া জাহলের সঙ্গে মিলে তিনি তিন মাত্রার কাকেয়া অনুমান প্রমাণ করেন, যা ৫০ বছর ধরে চলে আসা একটি বড় গাণিতিক প্রশ্নের সমাধান করে।
ইউ ডেং তরল বা প্রবাহী পদার্থের গতি নিয়ে গণিতে নতুন দিগন্ত খুলেছেন। অণুবীক্ষণ যন্ত্রে তরলের অণুগুলো এলোমেলোভাবে ঘুরে বেড়ালেও বিশাল পরিসরে তা সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে গণিতবিদেরা এই দুই আচরণের মিল খুঁজতে ব্যর্থ হলেও ডেং ও তার দল প্রমাণ করেন যে, উভয় স্কেলে প্রবাহী পদার্থ ব্যাখ্যার সমীকরণ একই।
জন পার্ডন মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকাকালে গণিতের নট থিওরির একটি জটিল ধাঁধার সমাধান করেন। তিনি বিভিন্ন ধরনের গিঁট আলাদা করার কৌশল অনুসন্ধান করতে গিয়ে ২৫ বছর ধরে অমীমাংসিত এক ধারণাকে সহজভাবে প্রমাণ করেন। অন্যদিকে, জ্যাকব জিমারম্যান ও তাঁর দল ২০২১ সালে বিখ্যাত আন্ড্রে-ওর্ট তত্ত্বের অনুমান প্রমাণ করেন। এই তত্ত্ব মূল সংখ্যার জটিল সমীকরণ ও বিশেষ গাণিতিক বিন্দুর কাঠামো বুঝতে সাহায্য করে।
জিমারম্যান জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গবেষণায় গণিতকে কাজে লাগাতে চান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের পৃথিবীতে বড় পরিবর্তন আসছে। এআই নিয়ে সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো আমরা এর ভেতরের ব্যবস্থা ভালোভাবে বুঝি না। বিশুদ্ধ গণিত এই অজ্ঞতা দূর করতে পারে।’ কানাডার গণিতবিদ জন চার্লস ফিল্ডসের নামে এই পুরস্কারের নামকরণ করা হয়েছে। ১৯২০-এর দশকে তিনি আন্তর্জাতিক গণিত সম্প্রদায়কে একত্র করতে উদ্যোগ নেন। নোবেল পুরস্কারের মতো প্রতিবছর নয়, প্রতি চার বছর পরপর দেওয়া হয় এই মেডেল। পুরস্কার বিজয়ী গণিতবিদদের বয়স অবশ্যই ৪০ বছরের কম হতে হয়।