জাতীয়

প্রাপ্তবয়স্ক নারী সবচেয়ে বেশি হত্যার শিকার, কন্যাশিশু ঝুঁকিতে: মহিলা পরিষদ

২৭ জুলাই ২০২৬
প্রাপ্তবয়স্ক নারী সবচেয়ে বেশি হত্যার শিকার, কন্যাশিশু ঝুঁকিতে: মহিলা পরিষদ
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সমীক্ষায় দেখা গেছে, নারী ও কন্যাশিশুর ওপর সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রাপ্তবয়স্ক নারীরা হত্যার শিকার হলেও কন্যাশিশুরা দলবদ্ধ ধর্ষণ ও আত্মহত্যার ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি।

ধর্ষণ, হত্যা, যৌন হয়রানি ও বাল্যবিবাহসহ নারী ও কন্যাশিশুর ওপর সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন চিত্র–২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বিচারহীনতা, তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ এই সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে।

সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক নারীরা হত্যার (৭৫৬টি ঘটনা), ধর্ষণের (৩৭৬টি ঘটনা) এবং যৌন হয়রানির (১২৫টি ঘটনা) ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। অন্যদিকে, কন্যাশিশুরা দলবদ্ধ ধর্ষণ (১৪২টি ঘটনা), আত্মহত্যা (২০৩টি ঘটনা) এবং ধর্ষণচেষ্টার (১১৭টি ঘটনা) ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি। পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গৃহিণীরা হত্যার ৫৮ শতাংশ ও যৌতুক সংক্রান্ত সহিংসতার ৯৪ শতাংশ ঘটনার শিকার।

শিক্ষার্থী কন্যাশিশুরা ধর্ষণের চেষ্টা (৮০ শতাংশ), আত্মহত্যা (৬৭ শতাংশ), দলবদ্ধ ধর্ষণ (৩৯ শতাংশ) এবং বাল্যবিবাহের (১০০ শতাংশ) ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। সংগঠনের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম জানান, ছয় থেকে নয় বছর বয়সী কন্যাশিশুদের ধর্ষণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, ধর্ষণের জন্য কখনোই ভুক্তভোগী দায়ী নয়, দায়ী অপরাধী এবং অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া সামাজিক মানসিকতা।

সমীক্ষায় বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষ্য-প্রমাণের দুর্বলতা এবং ভুক্তভোগীকে দোষারোপের প্রবণতাকে অপরাধীদের দায়মুক্তির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ধর্ষণ ও হত্যা ফৌজদারি অপরাধ, এসব ঘটনায় স্থানীয় সালিসের মাধ্যমে আপসের চেষ্টা আইন ও বিচারপ্রক্রিয়ার পরিপন্থী। তিনি গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও নারী আন্দোলনকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

নারী নির্যাতনবাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহিংসতাকন্যাশিশুবিচারহীনতা