পরপর তিন দিনে ৩ ড্রোন ভূপাতিত, রুশ দূতকে তলব রোমানিয়ার

টানা তিন দিন আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর রাশিয়া নির্মিত তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে রোমানিয়া। নিজস্ব সীমানায় বারবার ড্রোন প্রবেশের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে দেশটি। রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর রোববার সকালে তাদের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কৃষ্ণসাগরের ওপর একটি বিমান ভূপাতিত করে। এর আগে শুক্রবার ও শনিবারও একই ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হয় দেশটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ানা তোইউ জানান, আকাশসীমা লঙ্ঘনের প্রতিবাদ জানাতেই বুখারেস্টে নিযুক্ত রুশ দূতকে তলব করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোসর দান জানিয়েছেন, তদন্তে দেখা গেছে শুক্রবারের ড্রোনটি রাশিয়ার ব্যবহৃত 'শাহেদ' মডেলের ছিল। পূর্ব ইউরোপের ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষা করতেই মস্কো বারবার এমন অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ন্যাটোর সামরিক মুখপাত্র কর্নেল মার্টিন ও'ডনেল একে 'অগ্রহণযোগ্য' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ইউক্রেনে রাশিয়া আক্রমণ শুরুর পর থেকেই রোমানিয়া একাধিকবার ড্রোন প্রবেশের ঘটনা দেখেছে। গত মে মাসে গ্যালাটি শহরের এক আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় দুজন আহত হন, যা কোনো ন্যাটো দেশের জনবহুল এলাকায় প্রথম আঘাতের ঘটনা। গত মাসে কনস্টান্টা বন্দরেও একটি সামুদ্রিক ড্রোন বিস্ফোরিত হয়। এ ছাড়া বাল্টিক দেশগুলোতেও সম্প্রতি ঘন ঘন আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটে রাশিয়ার এ ধরনের আচরণকে সবার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছেন এবং ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের কথা জানিয়েছেন।
এদিকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে একে অপরের ভূখণ্ডে পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। রোববার ভোরে কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুজন নিহত ও অন্তত তিনজন আহত হন। অন্যদিকে ইউক্রেনের দখলকৃত হরলিভকা শহরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে রুশ সমর্থিত কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে নিজেদের সীমানা, কৃষ্ণসাগর ও ক্রিমিয়ার ওপর থেকে ১৩৩টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।