নেত্রকোনায় দাফন শেষে ফেরার পথে সংঘর্ষ, আহত ৩৮

নেত্রকোনার মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের আলমশ্রী গ্রামে আজ রোববার দুপুরে এক ব্যক্তির লাশ দাফন শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩৮ জন আহত হন এবং সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
গুরুতর আহত এমদাদুল হক, সাইফুল ইসলাম, সজীব মিয়া, প্রান্ত মিয়া, আবুল কাশেম, মুনায়েম, রামিন, সিফাত, রোশনারা আক্তার, রাকিবা আক্তার ও নুরজাহান আক্তারসহ একাধিক ব্যক্তিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহতরা মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আলমশ্রী গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ফারুক মিয়ার সঙ্গে সাবেক সদস্য বেকুল মিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। কয়েক দিন আগে ফারুকের খালাতো ভাই জামাল মিয়াকে গতি রোধ ও মামাতো ভাই হৃদয় মিয়াকে মারধর করা হয়। সালিস ব্যর্থ হলে ফারুক মিয়ার লোকজন বাজারে যাতায়াত বন্ধ করে দেন। গত শুক্রবার ফারুকের ভাতিজা ঢাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। আজ দাফন শেষে ফেরার পথে পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
বেকুল মিয়া অভিযোগ করেন, ফারুক মেম্বার হওয়ার পর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে লোকজনকে মারধর করে। তিনি দাবি করেন, তাঁর পক্ষের সাত্তার মিয়াকে রাস্তায় আটকে দেওয়ায় সংঘর্ষ শুরু হয়। অন্যদিকে, ফারুক মিয়া এটিকে পূর্বপরিকল্পিত হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি জানান, হাওরের মাছের ব্যবসা থেকে লাভবান হওয়ার লোভে তাঁদের গ্রামছাড়া করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন করিম জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।