নতুন তাপপ্রবাহের আগে দাবানল নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্স-স্পেনের দৌড়

ফ্রান্স ও স্পেনের অগ্নিশমন বাহিনী এই সপ্তাহে শুরু হওয়ার সম্ভাব্য নতুন তাপপ্রবাহের আগে বিশাল দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সময়ের সাথে দৌড় দিচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্ববর্তী এই কয়েকদিন অগ্নিশমন কাজের জন্য ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়েছে, আগামী নভেম্বর মাসের শুরু পর্যন্ত এই দাবানল জ্বলে থাকতে পারে, যা এলাকাটিতে জ্বলন্ত ভূমির পরিমাণে ইতিহাসের রেকর্ড ভাঙার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
স্পেনের অবস্থা বেশ জটিল। মাদ্রিদের পশ্চিমে অবস্থিত আভিলায় একটি দাবানল ইতিহাসের সর্ববৃহৎ দাবানলে পরিণত হয়েছে, যা ৫০,০০০ হেক্টর জমি জ্বালিয়ে দিয়েছে। মাদ্রিদের উত্তর-পশ্চিমে আরও দুটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে, যার ফলে রাজধানীর আশেপাশে মোট ৭০,০০০ হেক্টর জমি পোড়িয়ে ফেলা হয়েছে। স্পেনের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত তাপপ্রবাহ স্থায়ী থাকতে পারে এবং উচ্চ তাপমাত্রা ও স্থানীয়ভাবে প্রবল দক্ষিণ দিকের বাতাস অগ্নিশমন কাজকে আরও কঠিন করে তুলছে।
ফ্রান্সেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের জিরন্দের দাবানলকে ‘অত্যন্ত তীব্র ও অনিয়মিত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ। এই দাবানল বর্ডো শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে পৌঁছেছে এবং নিজস্ব বাতাস তৈরি করে অগ্রসর হচ্ছে। বর্ডোর মেয়র টমাস কাযেনে জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আরও মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর আগে ল্যান্ডেস এলাকার একটি দাবানলে ৩০,০০০-এর বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি এম্যানুয়েল ম্যাক্রন বর্ডো সফরে গিয়ে বলেন, ‘আগামী কয়েক সপ্তাহ কঠিন হবে এবং আমাদের টিকে থাকতে হবে।’ জিরন্দের দাবানল এ পর্যন্ত ৪২,০০০ হেক্টর জমি জ্বালিয়ে দিয়েছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সের সর্ববৃহৎ ধ্বংসাত্মক দাবানলের একটি। গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ফ্রান্সে ১,১৬,০০০ হেক্টর বন ও উদ্ভিদ জ্বলে ছাই হয়েছে, যা ২০২৫ সালের পুরো বছরের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে, স্পেনে এ বছর ১,৭২,০০০ হেক্টর বনাঞ্চল জ্বলে গেছে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ছয় গুণ বেশি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ফ্রান্সের জন্য ৭টি বিমান ও ৪টি হেলিকপ্টার এবং স্পেনের জন্য ৬টি বিমান ও ৩টি বন অগ্নিশমন দল পাঠিয়েছে। ইইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দাবানলের গতি এতটাই দ্রুত যে, অগ্নিশমন কর্মীরা সাধারণত ঘণ্টায় ৩০০ মিটার গতির আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হলেও, স্পেনের দক্ষিণে একটি দাবানল ঘণ্টায় ৪ মাইল গতিতে ছড়িয়েছিল, যার ফলে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দাবানলকে জলবায়ু সংকটের ‘সবচেয়ে ব্যথাদায়ক প্রকাশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।