জাতীয়

দুর্ঘটনার জটলা দেখতে গিয়ে যুবক দেখলেন আহত ব্যক্তি তাঁরই চাচা

১৫ আগস্ট ২০২৬
দুর্ঘটনার জটলা দেখতে গিয়ে যুবক দেখলেন আহত ব্যক্তি তাঁরই চাচা
ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মারা গেছেন, বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় আহত চাাকাকে উদ্ধার করেছিলেন ভাতিজা নাসির।

বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় সড়কে মানুষের ভিড় দেখে গাড়ি থামিয়েছিলেন নাসির উদ্দিন (২৫)। সেখানে জটলার মধ্যে আহত ব্যক্তির কাছে গিয়ে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। দুর্ঘটনায় কাতরাতে থাকা ব্যক্তিটি আর কেউ নন, তাঁরই নিজের চাচা ও পুলিশ কনস্টেবল জাহাঙ্গীর আলম (৪৩)। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কের কাজিরবাগ বাজারে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাহাঙ্গীর।

জাহাঙ্গীর আলম সাপ্তাহিক ছুটিতে চট্টগ্রাম থেকে গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন। নগরের খুলশী থানায় কর্মরত এই পুলিশ সদস্য ফেনী শহরে পৌঁছে কেনাকাটা শেষে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কাজিরবাগ বাজারে পৌঁছালে এলজিইডির একটি নিয়ন্ত্রণহীন পিকআপ ভ্যান প্রথমে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ও পরে জাহাঙ্গীরকে বহনকারী রিকশাটিকে সজোরে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং মাথায় মারাত্মক আঘাত পেয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়েন তিনি।

ভাতিজা নাসিরের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর জাহাঙ্গীরকে উদ্ধারে এগিয়ে না এসে স্থানীয় অনেকে মুঠোফোনে ভিডিও করতে ব্যস্ত ছিলেন। এমনকি এই সুযোগে আহত জাহাঙ্গীরের ব্যবহৃত মুঠোফোন ও মানিব্যাগও চুরি হয়ে যায়। পরবর্তীতে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা পেতেই প্রায় এক ঘণ্টা দেরি হয়। পরবর্তীতে সাড়ে তিন হাজার টাকার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া আট হাজার টাকা দিয়ে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়।

দুর্ঘটনার পরপরই পিকআপ ভ্যানের চালক সটকে পড়লেও গাড়িটি আটক করেছে ফেনী মডেল থানা-পুলিশ। নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কর্মঠ এই পুলিশ সদস্যের অকালপ্রয়াণে তাঁর বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পরিবারজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সড়ক দুর্ঘটনাফেনীপুলিশ কনস্টেবলচট্টগ্রাম মেডিকেল