তীব্র তাপপ্রবাহে খাবার স্যালাইনের সঠিক ব্যবহারের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে তাপপ্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ছে। এসব স্বাস্থ্যসংকট মোকাবিলায় খাবার স্যালাইন অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখলেও এর সঠিক ও যৌক্তিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও তীব্র তাপপ্রবাহে ওরস্যালাইন ব্যবহারে সচেতনতা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় জনস্বাস্থ্য ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। এসএমসি ওরস্যালাইন ও প্রথম আলো যৌথভাবে এই বৈঠকের আয়োজন করে।
আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, সাড়ে তিন দশক আগে ডায়রিয়া প্রধান প্রাণঘাতী রোগ হলেও খাবার স্যালাইনের ব্যাপক ব্যবহারে বর্তমানে এর মৃত্যুহার কমে ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমানে যেখানে নিউমোনিয়ায় মৃত্যুহার ৪০ শতাংশ, সেখানে ডায়রিয়ায় এই অগ্রগতি এসেছে সবার সম্মিলিত চেষ্টায়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৪৭ শতাংশ পানির উৎসে ই-কোলাই জীবাণু থাকে, যা ব্যবহারে অসংগতির কারণে ব্যবহারস্থলে গিয়ে ৮৫ শতাংশে দাঁড়ায়। দূষিত পানি ও দুর্বল স্যানিটেশন ব্যবস্থার ফলে শিশুরা বারবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অপুষ্টির শিকার হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সঠিকভাবে স্যালাইন তৈরির নিয়ম মেনে চলার তাগিদ দেন। চিকিৎসকদের মতে, আধা লিটার বিশুদ্ধ পানিতে পুরো এক প্যাকেট স্যালাইন গুলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করতে হবে। পানি ফোটানোর পর গরম অবস্থায় স্যালাইন মেশানো যাবে না এবং আন্দাজমতো পানি বা কম-বেশি স্যালাইন ব্যবহার করলে শরীরে লবণের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এছাড়া পাতলা পায়খানার সাথে রক্ত গেলে স্যালাইনের ওপর ভরসা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি তীব্র গরমে জনসমাগমস্থলে অস্থায়ী হাইড্রেশন পয়েন্ট চালুর আহ্বান জানানো হয়।