অপরাধ

জামালপুরে চাচা–ভাতিজা হত্যায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৭ জনের যাবজ্জীবন

২০ আগস্ট ২০২৬
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে চাচা ও ভাতিজাকে হত্যার মামলায় আদালত ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে চাচা ও ভাতিজাকে হত্যার দায়ে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড ও সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁদের আবারও কারাগারে পাঠানো হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন মো. শাখাওয়াত, মো. সোহেল, আল আমিন, মো. সাদ্দাম, মো. অন্তর, মো. উজ্জ্বল ও মো. ফয়জুর। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হলেন চান মিয়া, মো. জিয়ার, মো. শাহ আলম, মো. কাওছার, মো. সুমন, মো. রিফাত ও মো. মোস্তফা। তাঁদের সবার বাড়ি ওই উপজেলার গজারিয়া এলাকায়।

২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে পূর্বশত্রুতার জেরে গানবাজনার অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকার বাসিন্দা মহর আলী ও তাঁর ভাতিজা স্বপন মিয়াকে ডেকে নিয়ে যান আসামিরা। পরে তাঁদের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার একটি পাটখেতে নিয়ে গলা করে হত্যা করা হয়।

পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে দাহ্য পদার্থ দিয়ে মরদেহের মুখ ঝলসে দেওয়া হয়। ঘটনার তিন দিন পর ওই পাটখেত থেকে মহর আলী ও স্বপন মিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৯ মে স্বপন মিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। মামলায় ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। দীর্ঘ শুনানিতে অভিযোগটি প্রমাণিত হয়েছে। সাতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

জামালপুরমৃত্যুদণ্ডহত্যামাদারগঞ্জআদালত