জাতীয় কিডনি হাসপাতাল ২১ বছরে মাত্র ৮৬টি প্রতিস্থাপন

শেরেবাংলার জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউট (এনআইকেডিইউ) ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২১ বছরে মাত্র ৮৬টি কিডনি প্রতিস্থাপন করেছে।
ইউরোলজি শল্যচিকিৎসক ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জনসের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট প্রায় চার হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে, কিন্তু সরকারি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে এই সংখ্যা ১০০‑এরও কম।
এনআইকেডিইউতে ২০০৫ সালে প্রথম প্রতিস্থাপন শুরু হয়, এরপর ২০০৮‑২০১৫ পর্যন্ত প্রতি বছর ১–৮টি করে অপারেশন হয়েছে। ২০১৬‑২০২০ পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ২০২১‑এ পুনরায় শুরু করে ২০২৫‑এর জুলাই পর্যন্ত মোট ৮৬টি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।
ডা. মো. ফজল নাসের, কিডনি প্রতিস্থাপন প্রধান সমন্বয়কারী, বলেন যে বর্তমানে জনবল ও লজিস্টিক সুবিধা সীমিত থাকায় সপ্তাহে দুটি অপারেশন করা সম্ভব, যা বছরে প্রায় ১০০টি প্রতিস্থাপনের সমতুল্য।
হাসপাতালটি ৪৫০ শয্যার ক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে ১৫০ শয্যার কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। রেনাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে পাঁচটি শয্যা চালু থাকলেও টিস্যু ক্রস‑ম্যাচিং ও HLA টাইপিং পরীক্ষা অভ্যন্তরীণভাবে করা হয় না, ফলে রোগীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়।
অধিকন্তু, কিডনি দাতা ও গ্রহীতার সম্পর্ক ও কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য পুলিশ, আইনগত কমিটি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে বহু ধাপ অতিক্রম করতে হয়।
এনআইকেডিইউর মতে, দেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত, যাদের মধ্যে ৩৫‑৪০ হাজার রোগী প্রতি বছর ডায়ালাইসিস বা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। তবে প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা এখনো সীমিত, বিশেষজ্ঞ সার্জনের ঘাটতি ও চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে।