জয়দেবপুরে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে হত্যা: প্রসিকিউটরের শুনানি
পশ্চিমা বিশ্বের ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’-এর নামে বাংলাদেশে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল বলে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে জানান প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই পদ্ধতিতে হত্যা করা হতো। সরকার পতনের পর জঙ্গি পাওয়া যাচ্ছে না, তাই আইনানুগ বিচারের সুযোগও নেই।
২০১৬ সালে গাজীপুরের জয়দেবপুরে সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদনের ওপর শুনানি হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এ। এই মামলায় সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। শহীদুল হক ও আছাদুজ্জামান মিয়া কারাগারে আছেন এবং আজ তাদের হাজির করা হয়। বাকি আসামিরা পলাতক অবস্থায় আছেন।
প্রসিকিউটর জানান, সরকারের বিরুদ্ধে লেখালেখি করা ব্যক্তিদের জঙ্গি নাটক সাজিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হত্যা করতেন। মাদ্রাসাছাত্র মো. ইব্রাহীমের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফেসবুকে সরকার সমালোচনার স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে তাকে জয়দেবপুরে আটকে রেখে হত্যা করা হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে আনা সাতজনকে এক জায়গায় রেখে জঙ্গি দমনের নামে হত্যা করা হয়।
এই অপরাধে সোয়াট দলকে ব্যবহার করা হতো বলেও শুনানিতে জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সহায়তায় সোয়াট দলটি ৫০ সদস্য নিয়ে কাজ করত। সিটিটিসির অধীনে কাজ করা এই দল অভিযান চালিয়ে গুলি করে হত্যা করত, কিন্তু তারা জানতেন না কাকে হত্যা করছেন। প্রসিকিউটর দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের মূল দায়িত্ব নীতি নির্ধারণকারী ‘সুপিরিয়রদের’।
প্রসিকিউটর আরও বলেন, কারও বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলে বিচারকেরা মামলা না শোনার কারণে অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ প্রমাণিত হলে যে ১০ বছরের দণ্ড হতো, তা না হয়ে ১১ বছর কারাগারে কাটাতে হতো। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে, যেদিন আসামিপক্ষ তাদের বক্তব্য তুলে ধরবেন।