চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসি পাসের হার ৫৯.৪৮%, এক বছরে কমেছে ১২.৫৯ শতাংশ

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। গত বছরের তুলনায় এক বছরের ব্যবধানে বোর্ডে পাসের হার কমেছে ১২.৫৯ শতাংশ। পাশাপাশি জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে।
২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭২.০৭ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯.৪৮ শতাংশে। ছাত্রদের পাসের হার ৭১.৯৩ শতাংশ থেকে কমে ৫৮.৭৬ শতাংশে নেমেছে। অন্যদিকে ছাত্রীদের পাসের হার ৭২.১৯ শতাংশ থেকে কমে ৬০.০৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও একই চিত্র ফুটে উঠেছে। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৯২.৫৭ শতাংশ থেকে কমে ৮৪.৪১ শতাংশ হয়েছে। মানবিক বিভাগে এ হার ৫৫.০২ শতাংশ থেকে কমে ৩৮.৭৯ শতাংশে নেমেছে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৭৩.৫৪ শতাংশ থেকে কমে ৬০.১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৮১.০৩ শতাংশ থেকে কমে ৭৪.৩৩ শতাংশ হয়েছে। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৭১.২৯ শতাংশ থেকে কমে ৫৭.১৩ শতাংশে নেমেছে। মহানগরসহ পুরো চট্টগ্রাম জেলার পাসের হার ৭৪.৯০ শতাংশ থেকে কমে ৬৪.০৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বোর্ডের অন্যান্য জেলায়ও ফলাফলে অবনতি দেখা গেছে। কক্সবাজারে পাসের হার ৭০.৭৬ শতাংশ থেকে কমে ৫৭.০৯ শতাংশ হয়েছে। রাঙ্গামাটিতে এ হার ৫৬.৫৫ শতাংশ থেকে কমে ৪১.১৭ শতাংশ এবং খাগড়াছড়িতে ৬০.৭৭ শতাংশ থেকে কমে ৩৪.৯৯ শতাংশ হয়েছে। বান্দরবানে পাসের হার ৬৩.১২ শতাংশ থেকে কমে ৪৭.৮৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। ২০২৫ সালে ১১ হাজার ৮৪৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল, যা ২০২৬ সালে কমে ৯ হাজার ৩৯৮ জনে নেমেছে। অর্থাৎ এক বছরে জিপিএ-৫ কমেছে ২ হাজার ৪৪৫টি।
২০২৫ সালে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৩৩টি, যা ২০২৬ সালে কমে ২১টি হয়েছে। ২০২৫ সালে শূন্য শতাংশ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা একটি ছিল, তবে ২০২৬ সালের তথ্য প্রকাশিত তুলনামূলক তালিকায় অস্পষ্ট রয়েছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৮৮ জন। ২০২৬ সালে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন হয়েছে। অর্থাৎ পরীক্ষার্থী কমেছে ৯ হাজার ৭০৬ জন।
সার্বিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমার পাশাপাশি এবারের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই সূচকেই উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে।