গাজার কৃষিজমির ৯৭ শতাংশ ধ্বংস, ২৪ ঘণ্টায় ১০ জন নিহত

গাজা উপত্যকার মোট কৃষিজমির ৯৭ শতাংশ এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ২৪ জুন পর্যন্ত জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টার ইউনোস্যাট (UNOSAT) এবং খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) যৌথভাবে পরিচালিত এক মূল্যায়নে এই তথ্যটি প্রকাশিত হয়।
এফএওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় বর্তমানে মাত্র ৪৪৮ হেক্টর কৃষিজমি অক্ষত ও ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে এই সংখ্যা ছিল ৬০১ হেক্টর, অর্থাৎ মাত্র কয়েক মাসে ব্যবহারযোগ্য জমির পরিমাণ ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে গেছে। এছাড়া, মোট গ্রিনহাউস বা কাচঘরের কৃষি এলাকার মাত্র ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ এখনো অক্ষত। দক্ষিণ গাজার রাফাহতে কৃষিজমি ধ্বংসের হার সবচেয়ে বেশি, আর উত্তর গাজা ও গাজা গভর্নরেটে ভৌত ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে, যা এফএও গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (ICJ) হামলা বন্ধের নির্দেশ সত্ত্বেও এই পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৪১৭ জনে। এছাড়া ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৬০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ২০২৫ সালে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ২৮৩ জন নিহত এবং ৪ হাজার ২৪৮ জন আহত হয়েছেন।
এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে গাজার ব্যাপক অবকাঠামোগত ধ্বংস হয়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে।