গাজায় সম্পূর্ণ অস্ত্র সংবরণে রাজি হামাস, জানালেন ট্রাম্প

গাজায় হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর 'সম্পূর্ণ অস্ত্র সংবরণ' নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে বোর্ড অব পিস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘোষণা দিয়েছেন। বিবিসিকে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পিস বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজায় সম্পূর্ণ অস্ত্র সংবরণে তারা সম্মত হয়েছেন। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসছে।
ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে গাজার পুনর্গঠন ও অস্ত্র সংবরণের বিষয়টি যুক্ত রয়েছে। নিজের ট্রুথ সোশাল অ্যাকাউন্টে ট্রাম্প লিখেছেন, অস্ত্র সংবরণের প্রক্রিয়া শেষ হলেই গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরিয়ে নেওয়া হবে। এরপর গাজার বাসিন্দা ও প্রতিবেশীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সাথে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনী কাজ করবে। মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে ভূমিকা রাখায় মিসর, কাতার ও তুরস্ককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প।
বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও মন্তব্য না করলেও দেশটির সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রস্তাবে ইসরায়েলের আপত্তি রয়েছে। মিসরের কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীদের সাথে হামাস নেতাদের আলোচনায় অগ্রগতি হলেও ইসরায়েলি এক কর্মকর্তার মতে, প্রস্তাবিত শর্তগুলো জেরুজালেমের দাবি পূরণ করতে পারেনি। চলতি বছরের এপ্রিলেও ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উত্থাপিত একটি অস্ত্র সংবরণ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল হামাস।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হন। এর জবাবে গাজায় বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, চলমান এই যুদ্ধে ২১,২৮০ জন শিশুসহ অন্তত ৭৩,২৯০ জন নিহত হয়েছেন। গত ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিহত ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থানে চলতি মাসের শুরুতে খলিল আল-হাইয়াকে নিজেদের নতুন নেতা নির্বাচন করে হামাস।