জাতীয়

গাছ চুরির মামলায় বিএনপি-আ’লীগ নেতাকর্মীসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলা

২০ আগস্ট ২০২৬
গাছ চুরির মামলায় বিএনপি-আ’লীগ নেতাকর্মীসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলা
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে অবৈধভাবে গাছ কাটা ও চুরির অভিযোগে বিএনপি-আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে বন বিভাগ পৃথক দুই মামলা করেছে।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে অবৈধভাবে গাছ কাটা ও চুরির অভিযোগে বিএনপি-আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ মোট ৬২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে চুনারুঘাট থানায় বন বিভাগ এ মামলাগুলো করে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে তা অবৈধভাবে কেনাবেচা করা হতো।

এর মধ্যে রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে গাছ চুরি ও বিক্রির অভিযোগে ৪২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের বন কর্মকর্তা এইচ এম এরশাদ বাদি হয়ে এ মামলাটি করেন। অন্যদিকে, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে গাছ কাটা ও চুরিকৃত গাছ কেনাবেচার অভিযোগে ২০ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়। সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বাদি হয়ে মঙ্গলবার বিকেলে এ মামলাটি করেন।

মামলার আসামিদের মধ্যে সাতছড়ি উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল, গাছ ব্যবসায়ী মুনায়েম, কালা মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, জসিম, তাহির মিয়া, আব্দুল জলিল মিয়া, রফিক মিয়া, হেলাল মিয়া, মকবুল মিয়া ও মাসুম বিল্লাহ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া গাছ ক্রয়ের অভিযোগে উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর খাঁন, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক মিয়া মহলদার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক করিম সরকার, ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ মিয়া, কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গোপনীয় প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গাছ কেটে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ক্ষতি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চুনারুঘাট থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে মামলাটি করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, গাছ চুরির বিরুদ্ধে বন বিভাগ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ মিয়া অভিযোগটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে চুনারুঘাট উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এবং রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটা ও চুরি করে কেনাবেচা করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা ও বন বিভাগের তদন্তে জড়িতদের নাম পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়।

গাছ চুরিবিএনপিচুনারুঘাটবন বিভাগমামলা