জাতীয়

খাস জমি অব্যবস্থাপনার অভিযোগে পটুয়াখালীর সাবেক ইউএনও-কে শাস্তি

২৬ জুলাই ২০২৬
খাস জমি অব্যবস্থাপনার অভিযোগে পটুয়াখালীর সাবেক ইউএনও-কে শাস্তি
সরকারি খাস জমি জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কলাপাড়ার সাবেক ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হকের এক বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হকের এক বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করেছে সরকার। সরকারি খাস জমি ব্যবস্থাপনা ও তদারকিতে অবহেলার কারণে গঠিত বিভাগীয় মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এই লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। গত ২৩ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৫ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, কলাপাড়ায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ভূমিহীনদের দুই শতাংশ করে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্তের লক্ষ্যে ১৯৫টি কবুলিয়তের প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের জন্য পাঠান। অনুমোদনের পর নথিগুলো নিবন্ধনের জন্য উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. হুমায়ুন কবিরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে ওই সার্ভেয়ার জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়াই অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত জমি দেখিয়ে ৪২টি ভুয়া বন্দোবস্ত নথি তৈরি করেন।

আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক পরবর্তীতে এসব নথিপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই ওই ৪২টি ভুয়া নথিতে স্বাক্ষর করেন। এর ফলে মোট ৭১.৬৩ একর সরকারি খাস জমি অব্যবস্থাপনার মুখে পড়ে এবং সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই প্রশাসনিক অবহেলাকে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে ২০২৫ সালে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর তার ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় নিযুক্ত তদন্ত কর্মকর্তা সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে নথিপত্রের দৃশ্যমান কাটাছেঁড়া ও জমির পরিমাণে অসামঞ্জস্য থাকার পরও সই করার বিষয়টিকে দায়িত্বহীনতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ফলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগামী এক বছরের জন্য তার বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা হয়েছে এবং ওই সময়ের কোনো বকেয়া সুবিধাও তিনি পাবেন না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাখাস জমিজনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়পটুয়াখালীশাস্তি