আন্তর্জাতিক

উক্রেনে প্যাট্রিয়ট মিসাইলের সংকট, ন্যাটো দ্রুত সরবরাহের প্রতিশ্রুতি

৬ আগস্ট ২০২৬
উক্রেনে প্যাট্রিয়ট মিসাইলের সংকট, ন্যাটো দ্রুত সরবরাহের প্রতিশ্রুতি
রুশ হামলায় কোনো ব্যালিস্টিক মিসাইল থামাতে না পারায় উক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ন্যাটোকে প্যাট্রিয়ট মিসাইল জরুরিভাবে সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার রাতে রুশ হামলায় উক্রেনীয় বাহিনী কোনো ব্যালিস্টিক মিসাইলই থামাতে পারেনি। এই ঘটনার পর ন্যাটোর মহাসচিব জানিয়েছেন, উক্রেনের জরুরি প্রয়োজনীয় এয়ার ডিফেন্স সরবরাহের কাজ চলছে। উক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে দিয়েছেন, শীতকালে মস্কো মিসাইল উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে।

বুধবার রাতের হামলায় রাশিয়া ২৪টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ১১৫টি ড্রোন ছুঁড়ে দেয়। উক্রেনীয় বিমান বাহিনীর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তারা ১১৫টির মধ্যে ৯৮টি ড্রোন ধ্বংস করতে পেরেছে, কিন্তু কোনো ব্যালিস্টিক মিসাইলই থামাতে পারেনি। এই হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন।

জেলেনস্কি জানান, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মিত্র দেশগুলো থেকে এয়ার ডিফেন্স মিসাইলের সরবরাহ ২০২৫ সালের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। তিনি পশ্চিমী মিত্রদের কাছে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ বাড়ানোর জন্য অনুরোধ জানান। প্যাট্রিয়ট সিস্টেম ছাড়া উক্রেনের কাছে রুশ ইস্কান্ডার-এম, এস-৪০০ ও জিরকন মিসাইল থামানোর অন্য কোনো ব্যবস্থা নেই।

উক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা সেরহিই বেসক্রেস্তনভ টেলিগ্রামে লিখেছেন, রাশিয়া প্রতি মাসে ১০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোঁড়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, এই যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ে লজিস্টিক হাব, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও খাদ্য ভাণ্ডারগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা বাড়বে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে প্যাট্রিয়ট মিসাইলের সংকট তীব্র হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগে থেকেই মার্কিন প্যাট্রিয়ট মিসাইলের স্টক কমপক্ষে ৬৫ শতাংশ কমে গেছে। যদিও লকহিড মার্টিন ২০২৫ সালে ৬০০টিরও বেশি নতুন মিসাইল সরবরাহ করেছে, কিন্তু চাহিদা মেটানো কঠিন হচ্ছে। ন্যাটো জানায়, জার্মানিতে ইউরোপের প্রথম প্যাট্রিয়ট উৎপাদন কেন্দ্র সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার কথা।

উক্রেনন্যাটোপ্যাট্রিয়ট মিসাইলরুশ হামলাজেলেনস্কি