ইরান সংঘাত নিয়ে মতবিরোধ: সামরিক মহড়া কমিয়ে সিউলকে বার্তা ট্রাম্পের

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানানোয় দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জেরে ওয়াশিংটন ও সিউলের পূর্বনির্ধারিত বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া বড় পরিসরে ছেঁটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর ফলে আগে থেকে চলমান ১১ দিনের এই মহড়া কমিয়ে মাত্র ৫ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং বেশ কিছু মাঠ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সংকুচিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, পেন্টাগনকে মহড়ার ব্যাপ্তি বহুগুণ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি একে উত্তর কোরিয়ার প্রতি অহেতুক শত্রুতাপূর্ণ সংকেত বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় ৩৯ হাজার মার্কিন সেনা দক্ষিণ কোরিয়াকে উত্তর কোরিয়ার হাত থেকে রক্ষা করে আসছে, অথচ একটি সহজ সামরিক অভিযানে সিউল ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করতে রাজি হয়নি।
ট্রাম্পের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে সিউলের প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক মহলে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন পার্লামেন্টে জানান, এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের আগে কোনো আগাম তথ্য দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ ৭২ বছরের পুরোনো এই নিরাপত্তা জোটের ভবিষ্যৎ ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মনে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর জোর দিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি ট্রাম্পের অবস্থানের প্রতি কিছুটা নমনীয় সুর বজায় রেখে হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে দেশটির বিরোধী দল এই ঘটনাকে বড় ধরনের 'কূটনৈতিক বিপর্যয়' বলে সরকারের কঠোর সমালোচনা করছে।