ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ, একজোট উয়েফা-এএফসি-কনকাকাফ

বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা এবং তা দ্রুতই প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফ—এই তিন বৃহৎ ফুটবল কনফেডারেশন যৌথ চিঠি পাঠিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে ফুটবল কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তারা এই সিদ্ধান্তের পেছনে কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতে ফিফামুক্ত এক স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
তিন কনফেডারেশনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ফুটবলের নেতৃত্ব কোনো ক্ষমতা ধরে রাখা বা দাবি করার বিষয় নয়। প্রতারণার মাধ্যমে যখন ট্রাস্ট বা বিশ্বাস ভেঙে যায় এবং কোনো ব্যক্তি নিজেকে প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বড় মনে করেন, তখন মূলত আমানতের খিয়ানত হয়। নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেসও ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনোকে অবিলম্বে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে ফিফা ও ইনফান্তিনো এই সমালোচনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে ফিফা জানায়, গভর্নিং বডি ও এর সভাপতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি সংঘবদ্ধ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সভাপতির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে হলে তা নিয়ম মেনে গণতান্ত্রিক উপায়ে করা উচিত বলেও জানানো হয়। আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিএএফ) ৫৪টি সদস্য দেশসহ দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশ এবং মেক্সিকো ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে ফিফার ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে প্রায় ৭০টি দেশ প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর পক্ষে ভোট দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, প্রায় এক ডজন দেশ তাদের পূর্ব প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করে নিয়েছে অথবা জানিয়েছে তারা তাকে ভোট দেবে না। ফলে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্দরে চরম বিভাজন এখন স্পষ্ট।