আন্তর্জাতিক

ইউকে-র ইতিহাসের সবচেয়ে গরম দিন, ইউরোপে দাবানল ও বিদ্যুৎ সংকট

১৩ আগস্ট ২০২৬
ইউকে-র ইতিহাসের সবচেয়ে গরম দিন, ইউরোপে দাবানল ও বিদ্যুৎ সংকট
ইউরোপে পাঁচতম গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের শীর্ষে পৌঁছে ইউকে-র ইতিহাসের সবচেয়ে গরম দিনের রেকর্ড গড়া হয়েছে। দাবানল ও খরার কারণে ইউরোপজুড়ে বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সংকট দেখা দিয়েছে।

ইউরোপে পাঁচতম গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের শীর্ষে পৌঁছে বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে গরম দিনের রেকর্ড গড়েছে। মেট অফিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, লন্ডনের ক্যু গার্ডেন্সে তাপমাত্রা দাঁড়িয়েছে ৩৮.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২৮ জুনের আগের রেকর্ড ৩৮ ডিগ্রিকে ছাড়িয়ে গেছে। এই তাপপ্রবাহে ইউরোপ মহাদেশ জুড়ে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিরও বেশি হয়েছে।

মহাদেশে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ফ্রান্সে ১৭ দিন ধরে অস্বাভাবিক গরম চলছে, যা ইতিহাসের দীর্ঘতম সময়সীমার মধ্যে পড়ে। স্পেনের মিরান্ডা ডি এব্রোতে ৪২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এই অস্বাভাবিক গরম ও খরার কারণে ফ্রান্স ও স্পেনে দাবানলের আশঙ্কা বাড়ছে। ইউরোপীয় বন দাবানল তথ্য ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্পেনে এই সময়ে পোড়া এলাকার রেকর্ড ভেঙেছে।

যুক্তরাজ্যেও দাবানলের ঝুঁকি বাড়ছে। হ্যাম্পশায়ারের নিউ ফরেস্টে দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন ফায়ারফাইটাররা। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের স্টাউয়ারব্রিজের কাছে ঘাসের আগুনে অন্তত ছয়টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৬০ জন ফায়ারফাইটার ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। ইংল্যান্ডের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকা এবং ওয়েলসের সারা দেশে খরা দেখা দিয়েছে, যা পানি সরবরাহ ও কৃষি খাতে চাপ সৃষ্টি করেছে।

তাপপ্রবাহের প্রভাবে ইউরোপে বিদ্যুৎ সংকটও দেখা দিয়েছে। ড্যানিউব নদীর পানি স্তর কমে যাওয়ায় রোমানিয়া ও হাঙ্গেরির পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। রোমানিয়া তার একমাত্র পারমাণবিক কেন্দ্রের দুটি রিয়্যাক্টরের একটি বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, জার্মানিতে এই গ্রীষ্মে গরমের কারণে প্রায় ১২,৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অনুমান। মেট অফিস জানিয়েছে, ২০২৬ সাল যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের সবচেয়ে গরম গ্রীষ্ম হতে পারে।

তাপপ্রবাহদাবানলইউরোপযুক্তরাজ্যজলবায়ু