যে খাবার খেলে দুশ্চিন্তা কমবে

যে খাবার খেলে দুশ্চিন্তা কমবে

যে খাবার খেলে দুশ্চিন্তা কমবে

বিশ্রাম ও শরীরচর্চার মাধ্যমে দুশ্চিন্তার ক্ষতিকর প্রভাবগুলো মোকাবেলা করা সম্ভব। আবার কিছু খাবার আছে যেগুলো দুশ্চিন্তা দূর মোকাবেলায় সহায়ক। দুশ্চিন্তা মোকাবেলায় সহায়ক এমন কয়েকটি খাবারের কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক এক ওয়েবসাইট।

ব্লুবেরি, কমলা ও অ্যাভোকাডো
মানসিক চাপ কমাতে ফল বেশ উপকারী। এজন্য সেরা তিনটি ফল হল ব্লুবেরি, কমলা ও অ্যাভোকাডো। ব্লুবেরিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা মানসিক চাপ দূর করতে সহায়ক। এটি হতাশা ও অনিদ্রা দূর করতেও কার্যকর।

কমলায় আছে প্রচুর ভিটামিন সি, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দেয়। পাশাপাশি দুশ্চিন্তার কারণে শরীরে ছড়িয়ে পড়া ক্ষতিকর ‘ফ্রি র‌্যাডিক্যাল’গুলোর সঙ্গেও লড়াই করে এই ভিটামিন। অ্যাভোকাডোতে মেলে ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, পটাশিয়াম ও প্রোটিন। যা দুশ্চিন্তার সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনগুলোকে নিয়ন্ত্রণ এবং অপসারণ করে। ফলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুকোষগুলো সুস্থ থাকে।

গ্রিন টি
গ্রিন টি-তেও থাকে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। শরীর ও মনে একধরনের প্রশান্তির অনুভব ছড়িযে দিতে পারে এই পানীয়। যারা দৈনিক গ্রিন টি পান করেন তাদের সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বেশি এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। গ্রিন টি পছন্দ না হলে, ব্ল্যাক টি’ও খাওয়া যেতে পারে। গ্রিন টি ধূমপায়ী এবং মদ্যপায়ীদের জন্যও বেশ উপকারী।

দুধ
যারা নিয়মিত দুধ পান করেন, তাদের মানসিক চাপে ভোগার আশঙ্কা কম। এক গ্লাসে দুধে যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন, ক্যালাসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যার সবগুলোই ‘ফ্রি র‌্যাডিকেল’য়ের বিরুদ্ধে কার্যকরী। দুধের সঙ্গে হোল গ্রেইন সিরিয়াল বা কৃত্রিম উপাদান মুক্ত প্রাকৃতিক খাবার খেতে পারেন। দুশ্চিন্তার বিরুদ্ধে লড়তে এটি সবচাইতে উপকারী।

স্যামন মাছ
স্যামন মাছের স্বাস্থ্যগুণের জন্য সুপরিচিত এবং প্রোটিনের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস। পাশাপাশি মানসিক চাপ দূর করতেও কার্যকর। এতে আছে মস্তিষ্কের সেরোটনিনের মাত্রা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান, যা মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করে। প্রতিসপ্তাহে এই মাছ খাওয়া স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার জন্য উত্তম। এছাড়াও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর তেলযুক্ত মাছ যেমন- টুনা, সার্ডিনস, ম্যাকরেল ইত্যাদিও খাওয়া যেতে পারে।

বাদামি চাল
পুষ্টিগুণের কারণে বাদামি বা লাল চাল, সাদা চালের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর। এতে মিলবে প্রচুর ভিটামিন বি। আর এই ভিটামিন যথেষ্ট পরিমাণে থাকলে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসে। মানসিক জটিলতা থেকে মুক্তি দিতেও সহায়ক এই ভিটামিন বি।
পালংশাক
শাকজাতীয় সবজিগুলো ভিটামিন এ, সি এবং বি-তে ভরপুর, যা সুস্বাস্থ্যের জন্য দরকার পরে। এতে আরও থাকে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম যা শরীরে দুশ্চিন্তা সৃষ্টিকারী হরমোনের পরিমাণ কমায়।
দৈনিক এক কাপ পালংশাক উল্ল্যেখযোগ্য হারে মানসিক চাপ কমাতে এবং মানসিক স্থিরতা আনতে সক্ষম। এটি কাঁচা বা রান্না দুইভাবেই খেতে পারবেন।

কাঠবাদাম
এটি ভিটামিন, স্বাস্থ্যকর তেল এবং মিনারেলে ভরপুর। খেতে পারেন হালকা স্ন্যাকস হিসেবে আবার ব্যবহার করতে পারেন বেইকিং করা খাবারে। কর্মক্ষমতা বাড়াতে, দুশ্চিন্তা সৃষ্টিকারী হরমোন নিয়ন্ত্রণে এবং রক্তচাপের মাত্রা কমাতে কাঠবাদাম উপকারী।

ডার্ক চকলেট
দেড় আউন্স পরিমাণ ডার্ক চকলেট উল্লেখযোগ্য হারে দুশ্চিন্তা এবং দুশ্চিন্তা সৃষ্টিকারী হরমোন কমাতে সক্ষম। হতাশা, বিরক্তিভাব এবং অবসাদ মোকাবেলা করার উপাদানও আছে এতে। একগ্লাস চকলেট দুধেও একই উপকার পাওয়া যায়।

Share This Post

Post Comment