ওভেন ছাড়াই বানান এগলেস সফট বান।

ওভেন ছাড়াই বানান এগলেস সফট বান।

পাউরুটি বানাতে ইচ্ছা করছে কিন্তু বাসায় ওভেন নাই, তাতে কি , চুলা তো আছে, চুলায় বানাও সুপার সফট বান / পাউরুটি
এগলেস সফট বান/পাউরুটি
পরিবেশন-২-৩ জন
উপকরনঃ
•ময়দা-১ কাপ
•লিকুইড দুধ- ১০০ মি লি বা আধা কাপ থেকে ১ টেবিল চামচ কম
•গুড়া দুধ-১ টেবিল চামচ
•চিনি- ১ বা ২ টেবিল চামচ ( চাইলে কমানো বাড়ানো যাবে)
•বাটার- ২ চা চামচ ( তেল দিতে পারো তবে বাটার, স্বাদ এবং সফটনেসের জন্য বেশী ভালো)
•লবন-আধা চা চামচ ( চাইলে কমাতে বাড়াতে পারবে)
•ইস্ট -১ চা চামচ

প্রনালীঃ
১) আধা কাপ হালকা গরম দুধে ১ চা চামচ চিনি মিশিয়ে ( চিনি মেশাতে গিয়ে যেনো দুধ ঠান্ডা না হয়ে যায়, দুধটা চিনি মেশানোর আগে একটু বেশী গরম থাকলে সমস্যা নাই, ইস্ট মেশানোর সময় যেনো হাল্কা গরম থাকে) তাতে ইস্ট দিয়ে ,চামচ দিয়ে মিশিয়ে দিবে ১০ মিনিট ঢেকে রাখলে দেখবে দুধ ফুলে উঠেছে অনেকটা ফেনার মতো,
২)এবার একটা সমান কিছুর উপর, যেমন পরিস্কার টেবিলের উপর বা বড় ট্রের উপর ১ কাপ ময়দা , ১ টেবিল চামচ গুড়া দুধ, ১ বা ২ টেবিল চামচ চিনি আর লবন দিয়ে হাত দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে পিরামিডের মতো মাঝেউচু করে রাখবে। ময়দার মিক্সটাতে মাঝে একটা শূন্যস্থান বা গর্ত তৈরী করে ইস্ট মেশানো দুধটা ওই মাঝের যায়গায় রেখে চারপাশ থেকে ময়দাটা একটু একটু করে দুধের মধ্যে দিয়ে দিয়ে পুরো ময়দার মিশ্রণ মিশাতে হবে , এই মিক্স টা খুব আঠালো মিক্স হবে, পেস্টের মতো, এবার নরম মাখন ডো এর উপর রেখে হাতের তালু দিয়ে এই মিক্সটা সমান জায়গাটায় ছড়িয়ে মাখতে হবে ,পুরো ছড়িয়ে যাবে এবং হাতে লেগে যাবে কিন্তু এভাবেই হাতের তালু দিয়ে ঘষে ঘষে মাখতে থাকবে ,২-৩ মিনিট পর ছড়ানো ময়দাকে একটা খুন্তি বা বড় ছুড়ির সাহায্যে আবার এক জায়গায় আনতে হবে, হাতের ময়দা গুলোও ছাড়িয়ে নিতে হবে এবং আবার একত্র করা ময়দা টাকে হাতের তালু দিয়ে সমান জায়গার উপর ছড়িয়ে ( যতটা ছড়ানো যায়) ঘষে ঘষে মাখতে হবে, আবার ২-৩মিনিট পর একত্র করতে হবে। এভাবে প্রায় ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে ময়দার ডোটার স্টিকি ভাব কমে গিয়ে রাবারের মতো হয়ে যাবে, অর্থাৎ তখন আর ময়দা হাত দিয়ে সমান জায়গায় ছড়ানোর চেষ্টা করলেও ছড়াবে না, রাবারের মতো সমান জায়গা থেকে উঠে আসবে। নরম ডো তৈরী হবে।
৩)এই ডো টাকে একটা এয়ার টাইট স্টিলে বা এলুমিনিয়ামের গভীর পাতিলে বা বক্সে তেল লাগিয়ে রেখে টাইট করে আটকে দিয়ে কোনো গরম জায়গায় বা দুই জ্বলন্ত চুলার ( একদম কম জ্বালে থাকবে) মাঝে রেখে দিবে প্রায় ১ ঘন্টা বা ডো টা ডাবল থেকে ট্রিপল পরিমান ফুলে উঠা পর্যন্ত। প্লাস্টিকের বক্সেও রাখা যায় তবে সেক্ষেত্রে বক্সটাকে আগুনের কাছে রাখা যাবে না।
৪) ডো ফুলে উঠলে ডো টাকে নিয়ে আবার চেপে চেপে বাতাস বের করে ১ মিনিটের মতো ছানতে হবে, হাতে আটকে যেতে চাইলে সামান্য ময়দা ছিটিয়ে মাখবে। আবার ডো টাকে ছয় সমান ভাগে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগকে গোল করে নিবে। এবার কোনো ৬ ইন্চির মতো চওড়া আর ২ ইন্চির মতো লম্বা ,গোল বা যে কোনো শেপে বেকিং পাত্রে (ননস্টিক, এলুমিনিয়াম ,স্টিলের) ব্রাশ করে বল গুলো কে আধা সেন্টি মিটার দুরত্বে বসাতে হবে। এবং একটা ভেজা কিন্তু চিপে নেয়া পরিস্কার কাপড় বা টাওয়েল দিয়ে পাত্রটাকে ঢেকে দিতে হবে তবে ডো এর উপরে যেনো কাপড় টা না লাগে, এবং ফোলার পর্যাপ্ত জায়গা পায়। পাত্রটার মুখে টান টান করে কাপড়টা বসাতে হবে। এবং সাবধানে আগের মতো দুই চুলার মাঝে রাখতে হবে, ১ ঘন্টা বা ডাবল থেকে ট্রিপল হওয়া পর্যন্ত। ফুলে গেলে তাওয়েল সরিয়ে অল্প দুধ দিয়ে বানের উপর ব্রাশ করে দিবে, এতেই লাল হয়ে উঠবে উপরটা , তবে খুব হাল্কা করে ব্র্যাশ করবে নাহলে বানের বাতাস বের হয়ে যাবে, বেকিং ব্রাশ না থাকলে একটা ছোট কাপড়ের আগায় দুধ লাগিয়ে কাপড়টা আলতো করে বানের উপর লাগিয়ে দিলে দুধটা ব্রাশ হয়ে যাবে
৫) চুলায় একটা বড় পাতিল বা সসপেনে ২ কাপের মতো বালি বা লবন দিয়ে একটা পাতিল রাখার স্টিলের স্ট্যন্ড বসাবে এবার বড় পাতিল ঢেকে ১০ মিনিট মাঝারী আঁচে গরম করে রাখো। এবার ঢাকনা খুলে বানের পাত্র পাতিলের ভিতর বানের পাত্রের উপর বসিয়ে ঢেকে দিয়ে ভারী কিছু দিয়ে চেপে দাও, ১০ মিনিট মাঝারী আঁচে ই থাকবে তারপর জ্বাল একদম কমিয়ে দাও এবং আরো দশ থেকে পনেরো মিনিটের মতো লাগবে, তবে নামানোর আগে চেক করবে উপরে লাল হয়ে উঠেছে কিনা।না হলে আরেকটু সময় রাখো, খেয়াল রেখো যেনো তলায় না পোড়ে। প্রয়োজনে একটা লম্বা কাঠি দিয়ে মাঝের বান টার মাঝে গেথে যদি পরিস্কার কাঠি বের তাহলে বুঝবে হয়ে গেছে। এটা প্রেসার কুকারে একি ভাবে করা যায় তবে ঢাকনার রাবার খুলে নিতে হবে।
৬ ) বান নামিয়ে অল্প মাখন দিয়ে ব্রাশ করে নিলে চকচকে হবে, আর একটা ভেজা চিপে নেয়া কাপড় বা টাওয়েল দিয়ে বানের উপর হাল্কা করে বসিয়ে দিবে চেপে চেপে বসাবে না ,এভাবে রাখবে ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত । নামিয়ে ছুড়ি দিয়ে চারধার ছাড়িয়ে নিয়ে বের করবে। ও খাবে এবং এয়ার টাইট বক্সে সংরক্ষন করবে। এটা দিয়ে নরমাল বান , বারগারের বান বা যে কোনো কিছু দিয়ে খেতে পারবে।
টিপসঃ
১) একি ভাবেই পাউরুটি বা যে কোনো আকারের বান বানাতে পারবে, এটা খুব সফট স্পন্জি হয়, বান নরম হওয়ার মুল বিষয় হচ্ছে ডো টা খুব নরম করে তৈরী করা, এবং ভালো করে মেখে রাবারের মতো করা। আর চুলার আঁচ ঠিক ভাবে ঠিকভাবে মেইনটেইন করতে পারলেই সুন্দর বান পাবে।
২) ইস্ট যদি ১০ মিনিটের মধ্যে না ফুলে উঠে তাহলে বুঝবে ইস্ট ভালো নাই, তবে ইস্টটা অবশ্যই চিনি মিশানো হাল্কা ( কুসুম) গরম দুধে / পানিতে গুলাবে, বেশী গরম বা ঠান্ডা পানিতে গুলালে ইস্ট মরে যাবে।

Share This Post

Post Comment