জ্বরের প্রাথমিক চিকিৎসা!

জ্বরের প্রাথমিক চিকিৎসা!

জ্বরের প্রাথমিক চিকিৎসা :
জ্বর সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকলে অনেক উপকৃত হওয়া যায়। আসুন জ্বরের সাধারণ কিছু কথা জেনে নিই। থার্মোমিটারে দেহের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার উপরে উঠলেই তাকে জ্বর বলা যাবে। এজন্য পরিবারের সদস্যদের জ্বর মাপার নিয়ম চিকিৎসকদের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে। জ্বরের কারণ নির্ণয়ের জন্য ছয় থেকে আট ঘন্টা অন্তর অন্তর জ্বরের রেকর্ড লিখে রাখা ভাল। গায়ে জ্বর জ্বর মনে হয় বা ১০২ডিগ্রি বা ১০৩ ডিগ্রি জ্বর থাকতে পারে- এমন মনগড়া মন্তব্য রোগ নির্ণয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বিভিন্ন ধরনের ফ্লুতে এখন অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন। এগুলো ভাইরাস দিয়ে ছড়ায়। এবং সহজেই পাশের সুস্থ ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারে। উর্ধ্বশ্বাসতন্রের প্রদাহ, টনসিলাইটিস, সোয়াইন বা ডেঙ্গু ফিভার বা সিজনাল ফ্লু’র কমন উপসর্গ হচ্ছে জ্বর। পরিবারে কারো জ্বর হলে স্বাভাবিক ভাবেই অন্য সদস্যরা ভীত হয়ে পড়ে। জ্বরের ঘরোয়া চিকিৎসা কিভাবে নিবেন, তা উল্লেখ করা হল।

জ্বর ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার উপরে হলে রোগীর পুরো শরীরর স্পজিং করিয়ে দিতে হবে। প্রায় দশ মিনিট অবিরাম স্পজিং করলে তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি – ২ ডিগ্রি ফারেনহািইট নামানো সম্ভব। স্পজিং করার সময় ঞালকা করে ফ্যান ছেড়ে রাখতে হবে এবং বাতাস রোগীর শরীরে যেন ডাইরেক্ট না যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। একটি ছোট রুমাল বা গামছা পানিতে ভিজিয়ে শরীর ভিজিয়ে দিতে হবে। অপর একটি শুকনো ছোট গামছা দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। মনে রাখবেন যে কোন জ্বরেই স্পজিং উপকারী। এবং এভাবে প্রয়োজনে দিন-রাত চব্বিশ ঘন্টাই করা যায়। জ্বর ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হলে সিরিয়াসলি নিতে হবে। এক্ষেত্রে রোগীর কনভালসন বা খিচুনি এবং আনকনসাস বা রোগী জ্ঞানও হারাতে পারে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের এটি বেশি হয়। খিঁচুনির ইতিহাস থাকলে রোগীকে চিকিৎসকের নির্দেশে ডায়াজিপাম ও ফেনারগন দিতে হয়। উচ্চমাত্রার জ্বর প্রতিরোধের জন্য ইয়ংগার বা এলডার যে এজ গ্রুপের রোগী কে গোসল করতে নিষেধ নেই। তবে নিউমেটিয়া বা শ্বাস তন্ত্রে প্রদাহ থাকলে গোসল না করানোই ভাল।
জ্বর ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার উপরে উঠলে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট বা সাপোজিটরি ব্যবহার করতে পারেন। দিনে সাধারণত তিনবার ট্যাবলেট ব্যবহার করা যায়। তবে প্যারাসিটামল তো এন্টিবায়োটিকের মত নয়, যে কোর্স অনুযায়ী কেতে হবে। জ্বর থাকলেই তা ব্যবহার করা যায়। তবে কোনও অবস্থাতেই জ্বর নামানোর জন্য এন এস এ আই ডি যেমন ডাইক্লোফেনাক, ইনডোমেথাসিন, নিমেসুলেমাইড, এসপিরিন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না। তাতে জটিলতা বেড়ে রোগীর মৃত্যু ঝুকি বাড়ে। ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট ব্ তার বেশি জ্বর টানা তিন দিন থাকলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক খাবেন, নিজের খেয়াল খুশি মত নয়। যে কোনও জ্বরে ফ্লুইড বা পানীয় খাওয়ানোর প্রতি জোর দেয়া হয়, এতে রোগীর শরীরে হাইড্রমেন হয় এবং দেহের তাপমাত্রা বের হয়ে যেতে সাহায্য করে। পেন ওয়াটার, ডাব ওয়াটার, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, ফলের রস, কোমল পানীয় এক্ষেত্রে উপকারী। স্যুপ, দুধ, হরলিক্সও খাওয়া যায়। এছাড়া অন্যান্ন পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবারের দিকেও লক্ষ্য রাকতে হবে। এ সময় মুখ তিতা হয়ে যায় বলে ভিটামিন-সি বা টক জাতীয় ফল খাওয়া প্রয়োজন। এতে মুখের তিতা ভাব দূর হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

Share This Post

Post Comment