অফিসে সুস্থ থাকার ৫টি সহজ টিপস

অফিসে সুস্থ থাকার ৫টি সহজ টিপস

কর্মস্থলে একনাগাড়ে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই পিঠ ব্যথার মতো কিছু সমস্যা সহ অস্বস্তিতে ভোগেন। বেশিরভাগ মানুষ কাজের চাপকেই এজন্য দায়ী করেন। এই পিঠ ব্যথার সমস্যা হয়তো দীর্ঘ সময়ব্যাপী হতে পারে এবং মাংসপেশী, অস্থিসন্ধি, লিগামেন্টসহ যেকোনো স্থানে করে বসতে পারে বড় কোনো ক্ষতি। এধরণের সমস্যা নতুন চাকরিতে ঢোকা মানুষগুলোর বেশি হয়, বিশেষ করে হঠাৎ করে যখন তারা একটানা ৪-৫ ঘণ্টা নিজ চেয়ারে বসে কাজ করেন। কিন্তু আপনার কিছু সাবধানতা এবং অভ্যাসই এধরণের সমস্যা থেকে খুব সহজেই রেহাই দিতে পারে আপনাকে। আসুন জেনে নেই এমনই পাঁচটি মহামূল্যবান টিপস, যা আপনার শারীরিক ও মানসিক অবস্থাকে রাখবে চনমনে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত অস্বস্তি থেকে রেহাই দেবে আপনাকে।

সোজা হয়ে বসুন:
কিছু মানুষ আছেন যারা নিজ ডেস্কে কাজ করার সময় জবুথবু হয়ে বসেন। এটা খুবই খারাপ অভ্যাস। কারণ দীর্ঘসময় এভাবে থাকলে পিঠ ব্যথাসহ যেকোনো অস্বস্তির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া অসাড়তা, মাংসপেশী শক্ত হয়ে যাওয়াসহ আরো কিছু সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। কাজেই কাজ করার সময় এমনভাবে বসুন, যেন আপনার উর্ধ্বাঙ্গ, কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত এবং হাঁটু থেকে পায়ের বাকি অংশ পরস্পরের সাথে ৯০ ডিগ্রি কোণ করে থাকে। বসার জন্য এমন একটা চেয়ার নির্বাচন করুন, যেখানে বসলে আপনার থাই ভূমির সমান্তরালে থাকে এবং সেই চেয়ারটার পেছন দিকটা এমনভাবে থাকবে যেন সেখানে হেলান দিলে আপনি স্বস্তি অনুভব করবেন।

ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ মনিটরটি ঠিক করে নিন:rupcare_girl at office1
অনেকেই ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ মনিটর কী অবস্থায় আছে সে বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখেন না। ডেস্কে বসেই কাজ শুরু দেন। কিন্তু একটু খেয়াল করলেই বুঝবেন, এই মনিটরের অবস্থানটাও আপনার পিঠ ব্যথাসহ বিভিন্ন অস্বস্তির জন্য দায়ী। কাজেই মনিটরটি আপনার চোখের সাথে এমন একটা কোণে রাখুন, যাতে তা আপনার অস্বস্তির কারণ না হয়। এছাড়া যারা ল্যাপটপ ব্যবহার করেন, তারা ল্যাপটপের কি-বোর্ড না ব্যবহার করে আলাদা কি-বোর্ড ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে আপনি আপনার শরীরের সাথে তাল মিলিয়ে স্বস্তিকরভাবে কাজ শেষ করতে পারবেন।

টানটান অবস্থায় বসবেন না:
আমরা ভয়ের কোনো ছায়াছবি দেখার সময় নিজের অজান্তে টানটান একটা অবস্থা চলে আসে। কোনো চেয়ারে বসা থাকলে সে সময় আমাদের শরীরের অবস্থা যেমন থাকে, ঠিক এমনভাবে যদি আমরা কর্মস্থলেও কাজ করি, অল্পতে পিঠ ব্যথা হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কাজেই সবসময় একদম সোজা হয়ে না বসে চেয়ারে হেলান দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করুন। এতে লম্বা সময় কাজ করেও আপনি যেমন ভালো থাকবেন, আপনার কাজের মানও তত উন্নত হবে।

গুটিসুটি হয়ে বসবেন না:
অনেকেই একটু সহজে বা আরামে কাজ করতে গুটিয়ে বসেন। বিশেষ করে কম্পিউটারে কাজ করার সময় অনেকেই এভাবে বসেন। কিন্তু এভাবে কিছুক্ষণ থাকলে অসাড়তা ভর করবে আপনার ভেতর, অনেক সময় মাংসপেশী শক্তও হয়ে যেতে পারে। পিঠে টান লেগে লিগামেন্টেও সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। কাজেই যথা সম্ভব rupcare_girl at office2চেয়ারে হেলান দিয়ে সোজা হয়ে কাজ করার চেষ্টা করুন। যদি কাজের মাঝে আরাম করতে ইচ্ছে হয় কিন্তু কাজ ছেড়ে ওঠার উপায় নেই, তাহলে পা লম্বা করে দিন। বিশেষ করে যাদের উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চির কম, তাদের পায়ের এই আরাম দীর্ঘসময় কাজ করার ক্ষেত্রে বেশ কার্যকরী।

মাঝে মধ্যেই নড়াচড়া করুন:
অনেকে রোবটের মতো একটানা কোনো নড়াচড়া না করে কাজের মাঝেই ডুবে থাকেন। কিন্তু এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা কাজের মাঝে খানিক পর পর নড়াচড়া করেন, কর্মবিরতিতে যান, তাদের কাজ করার হার রোবটের মতো একটানা কাজ করা মানুষের চেয়ে অনেক বেশি এবং এরা কাজের চাপজনিত শারীরিক কোনো সমস্যাতেও পড়েন খুবই কম।

Share This Post

Post Comment