ওজন কমায় যেসব খাবার

ওজন কমায় যেসব খাবার

ওজন কমায় যেসব খাবার

অতিরিক্ত ওজন কমাতে কত কিছুই না করা হয়। কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে বাজারের কত জিনিসই তো ব্যবহার করা হয়। কাজের কাজ তো হয় না কিছুই। অনেকেই আবার অস্বাস্থ্যকর ডায়েট করে শরীরের বিভিন্ন সমস্যায় ভোগেন। তাই ওজন কমানোর সবচেয়ে ভালো একটি উপায় হচ্ছে ডায়েট প্ল্যানে এমন সব খাবার যোগ করা যা আপনার ওজন কমানোর সাথে সাথে দেহের ভিটামিন এবং নিউট্রিশনের ব্যালেন্স ঠিক রাখবে। তাহলে আসুন এখন জেনে নেয়া যাক এমন কয়েকটি খাবার সম্পর্কে যা দেহের অতিরিক্ত ফ্যাট বার্ণ করে ওজন কমাতে সাহায্য করে।

০১. জাম্বুরাঃ

আমরা অনেকেই হয়তো জাম্বুরার ওজন কমানোর উপকারিতা সম্পর্কে জানিনা। জাম্বুরাতে থাকা ফাইটোকেমিকল্স্ ইনসুলিন লেভেল কমায় এবং এটি শরীরের ক্যালরিকে চর্বি তে রূপান্তরিত করার পরিবর্তে এনার্জীতে রূপান্তর করে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল, দুপুর এবং রাতের খাবারের পূর্বে অর্ধেক জাম্বুরা অথবা দিনে ৩ বার জাম্বুরার জুস পানের মাধ্যমে ১২ সপ্তাহে ৪ পাওন্ড এর মতো ওজন কমানো সম্বব। তাহলে আর দেরি কেন? আজ থেকেই আপনার ডায়েট প্ল্যানে যোগ করূন জাম্বুরা এবং দেখুন এর জাদু।

০২. গ্রীন টিঃ

গ্রীন টি ওজন কমাতে খুবই সহায়ক একটি পানীয়। গ্রীন টি তে থাকা কাটেচিন নামক এক ধরনের এন্টিওক্সিডেন্ট ফ্যাট বার্ণ করে। এটি অতিরিক্ত চর্বি কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, গ্রীন টি এক দিনে ৭০ কালরি পর্যন্ত ফ্যাট বার্ন করে। তার মানে নিয়মিত গ্রীন টি পানের মাধ্যমে বছরে ৭ পাওন্ড পর্যন্ত ওজন কমানো সম্বব। গ্রীন টি পান করার উপকারিতা হিসেবে ওজন কমানোর পাশাপাশি আরেকটি হেল্থ বোনাসও পাওয়া যাবে। আর তা হলো এটি LDL cholesterol কমায় যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

০৩. পানিঃ

দেহের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে পানি হতে পরে আপনার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, প্রতিদিন সকাল, দুপুর এবং রাতের খাবারের পূর্বে ২ গ্লাস ঠান্ডা পানি পান করলে বছরে ১৭,৪০০ এক্সট্রা ক্যালরি কমানো সম্ভব। তার মানে বছরে ৫ পাওন্ড পর্যন্ত ওজন কমাতে পারেন রেগুলার পানি পানের মাধ্যমে।

০৪. ডিমঃ

অনেকেই হয়তো অবাক হয়ে চিন্তা করছেন ডিম কিভাবে ওজন কমাতে সহায়ক হতে পরে। অবাক হবার কিছু নেই। ডিম হচ্ছে প্রোটিনে সমৃদ্ধ এমন একটি খাবার যা অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা থাকতে সাহায্য করে যার কারণে ক্ষুধা ভাব কম হয়। প্রতিদিন সকালে যদি ডিম ডায়েটে যোগ করা যায়, তাহলে আপনি সারাদিনে তুলনামূলক কম ক্যালরি গ্রহণ করবেন যা ওজন কমাতে সহায়ক।

০৫. পেস্তা বাদামঃ

আপনার ডায়েট প্ল্যানে স্ন্যাকস এর লিস্ট এ চোখ বন্ধ করে যোগ করতে পারেন এই পেস্তা বাদাম। পেস্তা বাদাম হচ্ছে পারফেক্ট স্ন্যাক কারণ এতে আছে হেলদী ফ্যাট, প্রোটিন এবং ডায়েট্রী ফাইবার যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তবে ফ্যাট এর কথা শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই ফ্যাট হচ্ছে আণস্যাচুরেটেড ফ্যাট যা ব্রেন এবং হার্ট কে হেল্দী রাখে।

০৬. মাশরুমঃ

নিয়মিত মাশরুম খাবার মাধ্যমে আপনি আপনার অতিরিক্ত চর্বি কাটিয়ে উঠতে পারেন। গরু বা অন্য চর্বিযুক্ত মাংসের পরিবর্তে মাশরুম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটি যেমন স্বাস্থ্যকর তেমনি এতে খুব কম ক্যালরি রয়েছে। এক কাপ মাশরুম এ ৪৪ ক্যালরি রয়েছে।

০৭. অলিভ অয়েলঃ

আপনি আপনার নিয়মিত খাদ্য অভ্যাসের সাথে অলিভ অয়েল যোগ করেও কমাতে পারেন অতিরিক্ত ওজন। এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল শরীরের জন্য উপকারী। এতে আছে এক প্রকার মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট যা ক্যালরি বার্ণ করতে খুবই উপকারী। রেগুলার সালাদের সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে আপনি যেমন সালাদের গুণকে বাড়িয়ে নিতে পারেন কয়েক গুণ, তেমনি ওজন টাও রাখতে পারেন নিয়ন্ত্রণে।

০৮. ব্রোকলিঃ

ব্রোকলিতে রয়েছে প্রোটিন, ফাইবার এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং মিনারেল্স। এতে অনেক কম ক্যালরি রয়েছে। ব্রোকলি ওজন বাড়ানোর জন্য দায়ী দুইটি টি জিনিস কে প্রতিহত করে। একটি হচ্ছে শারীরিক ক্ষুধা এবং অপরটি খাওয়ার ইচ্ছা। তাই আপনার ডায়েট প্ল্যানে ব্রোকলি যোগ করার মাধ্যমে ওজন কমাতে পারেন সহজেই।

 

Share This Post

Post Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.