দুই তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে ক্যান্সারের কারণ দুর্ভাগ্য

দুই তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে ক্যান্সারের কারণ দুর্ভাগ্য

137

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্যান্সারের পিছনে থাকে ‘দুর্ভাগ্য’। পারিপার্শ্বিক বা বংশগত কারণের তুলনায় ভাগ্যের অসহয়তাই নাকি দুই তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে ক্যান্সারের কারণ। বৃহস্পতিবার নয়া এক গবেষণার রিপোর্টে উঠে এল এই তত্ত্ব।

মার্কিনি জার্নাল সায়েন্স-এ এই গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এই রিপোর্ট অনুযায়ী পরিণত বয়স্কদের সুস্থ দেহ কোষের ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার পিছনে দায়ী এলোমেলো মিউটেশন।

একটি স্ট্যাটিসটিকাল মডেলের উপর ভিত্তি করে এই রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছে। দুর্ভাগ্য, পরিবেশ ও বংশগতি, এই তিনটির মধ্যে কোনটি বেশি বিপজ্জনক কারণ সেটাই বোঝার চেষ্টা করা হয়েছিল এই গবেষণায়। উদ্দেশ্য ছিল প্রধান কারণ খুঁজে পাওয়া গেলে ক্যান্সারে চিকিৎসাতেও আরও গতি আসবে।

জীবনযাত্রার ও অভ্যাসের পরিবর্তন নির্দিষ্ট কিছু ধরণের ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক হলেও আরও বহু ধরণের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে শুধু এই টুকুই যথেষ্ট নয় বলে দাবি করেছেন গবেষকরা।

কোষ বিভাজনের সময় ডিএনএ রেপ্লিকেশন কালে ডিএনএ-এর কোন একটি কেমিক্যাল লেটার ভুল করে অন্যটাতে পরিবর্তিত হয়ে গেলে মিউটেশন হয়। যার ফলে সমগ্র কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটিই এলোমেলো হয়ে যায়। যত বেশি মিউটেশন হয়, কোষ বিভাজন তত বেশি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। যা ক্যান্সারের পথ প্রশস্থ করে।

বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন টিস্যুতে পরীক্ষা করে দেখেছেন অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনের পিছনে যতটা না পরিবেশ বা বংশগতি দায়ী তার থেকে অনেক বেশি দায়ী কোষ বিভাজনের মাত্রা। কোষ বিভাজনের মাত্রা যত বাড়ে তত বাড়ে রেপ্লিকেশনের সময় ডিএনএ-র ভুল কোডিং-এর সম্ভাবনা।

”আমাদের গবেষণায় উঠে এসেছে যে টিস্যুগুলিতে কোষ বিভাজনের মাত্রা বেশি সেই টিস্যু গুলি অনেক বেশি ক্যান্সার প্রবণ।” জানিয়েছেন বার্ট ভোগেলস্টেইন, জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ মেডিসিনের অঙ্কোলজি বিভাগের অধ্যাপক।

উধাহরণ স্বরূপ বলা যায়, মানুষের কোলন টিস্যুতে দেহ কোষ বিভাজনের মাত্রা ক্ষুদ্রান্তের কোষ বিভাজনের থেকে ৪গুণ বেশি। দেখা গেছে কোলন ক্যান্সারের সম্ভাবনা বা প্রভাব ক্ষুদ্রান্তের ক্যান্সারের থেকে অনেক বেশি।

ইঁদুরের ক্ষেত্রে এর ঠিক বিপরীত ঘটনা দেখতে পাওয়া যায়। ইঁদুরদের কোলনের তুলনায় ক্ষুদ্রান্তে কোষ বিভাজন বেশি হয়। তাই ইঁদুরদের মধ্যে ক্ষুদ্রান্তে ক্যান্সার বেশি হয়।

৩১টি টিস্যুতে ২২ রকমের ক্যান্সারের পিছনে এই ‘দুর্ভাগ্য’-কেই দায়ি করেছেন বিজ্ঞানীরা।

জীবনযাত্রা, অভ্যাস বা বংশগতির তুলনায় একটি ক্যান্সার ড্রাইভার জিনে মিউটেশন ক্যান্সারের সম্ভাবনা অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয়।

তবে স্তন বা প্রোস্টেট ক্যান্সারকে এই গবেষণার আওতায় আনা হয়নি। এই টিস্যু গুলিতে দেহ কোষ বিভাজনের মাত্রা এখনও বোঝা যায়নি।

Share This Post

Post Comment