গুনে ভরা গাঁদা ফুল

গুনে ভরা গাঁদা ফুল

118

বাংলাদেশে গাঁদা একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত ফুল। সাধারণত এটি শীতকালীন ফুল হলেও বর্তমানে এটি গ্রীষ্ম এবং বর্ষাকালেও চাষাবাদ হয়ে থাকে।

গাঁদা ফুল বিভিন্ন জাত ও রঙের দেখা যায়। বাগানের শোভা বর্ধন ছাড়াও বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বন ও গৃহসজ্জায় এর ব্যাপক ব্যবহার ফুলটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।শীতকাল এলেই শহুরে বারান্দায়, ছাদে কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গনে হলুদ রঙের সমারোহ চোখে পড়বেই পড়বে। আর শীতের দিনে এই হলুদের উত্স যে ফুলটি তার নামটি হচ্ছে গাঁদাফুল।দক্ষিণ ইউরোপে সর্বপ্রথম গাঁদাফুলের চাষ শুরু হলেও বর্তমানে এর ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়েছে সারাবিশ্বে। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান গাঁদাফুল ছাড়া যেন অসম্ভব বলেই মনে হয়।

বাংলাদেশে প্রধানত দুই ধরনের গাঁদা পাওয়া যায়-

আফ্রিকান গাঁদাঃ

এই শ্রেণীর গাঁদা হলুদ রঙের, গাছের আকৃতি বেশ বড়। উল্লেখযোগ্য জাতসমূহ হলঃ ইনকা, গিনি গোল্ড, ইয়েলা সুপ্রিম, গোল্ডস্মিথ, ম্যান ইন দি মুন, ইত্যাদি।
ফরাসি গাঁদাঃ

এই শ্রেণীর গাঁদা কমলা হলুদ হয়ে থাকে। এজন্য এদের রক্তগাঁদাও বলা হয়। এর গাছ ক্ষুদ্রাকৃতির। পাপড়ির গোড়ায় কালো ছোপ থাকে। উল্লেখযোগ্য জাতসমূহ হলঃ মেরিয়েটা, হারমনি, লিজন অব অনার, ইত্যাদি।
এছাড়াও সাদা গাঁদা, জাম্বো গাঁদা, হাইব্রিড এবং রক্ত বা চাইনিজ গাঁদার চাষ হয়ে থাকে।

তবে কেবলই কি সাজ সজ্জায় এর ব্যবহার? মোটেই না! বরং গাঁদা ফুলের আছে আরও নানান রকম ঔষধি ক্ষমতা। আসুন জেনে নেই সেসবই।

 গাঁদা ফুলের ও পাতার ওষধি গুণাগুণ –

1. ক্ষত ও আঘাতে এর পাতার রস অত্যন্ত কার্যকরী।

2. পাতার রস কান পাকা রোগ ছাড়াও ছত্রাকনাশক হিসেবে বেশ কার্যকরী।

3.  গাঁদা ফুলের নির্যাস টিউমারের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।

4.  গাঁদা ফুলের নির্যাস ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

5.  জমিতে গাঁদা গাছের শুকনা গুড়া বা অপ্রয়োজনীয় অংশ প্রয়োগ করে নেমাটোডের মতো মারাত্মক রোগের উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

6.  বিভিন্ন ধরনের তেল ও সুগন্ধি তৈরিতে গাঁদা ফুল ব্যবহৃত হয়।ন

7.  ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করতে গাঁদাফুল হতে পারে এক কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান। গরম পানিতে কয়েকটি পরিষ্কার তাজাফুল ভিজিয়ে রাখুন। প্রতিদিন সেই পানি মুখে মেখে দশমিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

8. গোসলের আগে গাঁদাফুলের পাঁপড়ি পরিষ্কার পানিতে ফুটিয়ে নিন। সেই পানি কুসুম গরম থাকতেই গোসলের পানিতে মিশিয়ে গোসল করে নিন। ভ্যাজিনাল ইনফেকশন, ব্লাডার ইনফেকশন, একজিমা প্রতিরোধ করবে।

তাহলে আর দেরি কেন? কাছাকাছি নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে টবেই লাগিয়ে ফেলুন না কয়েকটি গাঁদাফুলের গাছ। আর কিছু না হোক একটি ফুল খোঁপার গুঁজেই না হোক চমকে দিন প্রিয় জনকে!

Share This Post

Post Comment