মেথি মানব শরীরে যে ৬টি কার্যকরী ভূমিকা রাখে

মেথি মানব শরীরে যে ৬টি কার্যকরী ভূমিকা রাখে

ঔষধি গুণাগুণ সম্পন্ন মেথি মানব শরীরে বেশ কিছু কার্যকরী ভূমিকা রাখে। মেথিতে রয়েছে প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন, পটাশিয়াম, উপক্ষার, ভিটামিন সি এবং নিয়াসিন। এগুলো ছাড়াও এতে রয়েছে ডায়োজেনিন এবং বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন স্ত্রী হরমোন। এই ধরনের স্বাস্থ্যকর উপাদান মেথিতে রয়েছে বলে মেথি মানব শরীরের জন্য বেশ স্বাস্থ্যকর। জেনে নিন মেথি কী করে মানব শরীরে স্বাস্থ্যকর প্রভাব ফেলে।

১. চুলের সমস্যা সমাধান :

আপনি যদি মেথি সরাসরি খেয়ে ফেলেন তবে এটি আপনার ডায়েটে সহায়তা করবে। আর যদি আপনি এটি আপনার চুলে প্রয়োগ করেন তাহলে আপনার চুলের বিভিন্ন সমস্যা দূর করবে। চুলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা বলতে চুল পড়া, চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া ইত্যাদিকে বোঝায়। আপনি এর জন্য যদি মেথির বীজদানাকে কিছুটা গরম করে সারারাত নারিকেল তেলের মধ্যে ভিজিয়ে রেখে চুলে মেসেজ করে দেন তাহলে বেশ কার্যকরী ভূমিকা পাবেন। এভাবে নিয়মিত দিলে চুল পড়া রোধ করে, চুল ঘন হয়। এছাড়া এটি চুলের খুসকি দূর করে, উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং চুলের বিভিন্ন পুষ্টির যোগান দেয়।

২. ত্বকের যত্নে :

একটি ভেজা পরিষ্কার কাপড়ে মেথিদানা গুড়া কওে যদি ফোঁড়া, পোড়া এবং বিভিন্ন চর্মরোগের ক্ষেত্রে বিশেষ উপকার দেয়। ত্বক পরিষ্কার করতে, বিভিন্ন ক্ষত এবং ব্যথা সারাতেও এটি অনেক কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এছাড়া আপনার প্রতিদিনের ফেসপ্যাকে মেথি গাছের নির্যাস ব্যবহার করলে মুখের ব্রণ, কালো দাগ এবং ফুসকুড়ি নিরাময় হয়।

৩. ওজন কমায় :

সকালে খালি পেটে মেথিদানা চিবিয়ে খেলে ওজন কমাতে সাহায্য করে। মেথিতে এক ধরনের দ্রবণীয় আঁশ রয়েছে যা পাকস্থলীকে ভরাট এবং স্ফীত করে ফেলে যার ফলে ক্ষুধা নষ্ট হয়ে যায়।

৪. গলা ব্যথা কমায় :

লেবু এবং মধুর সাথে মেথিদানা গুড়া মিশিয়ে খেলে গলা ব্যথা উপশম করে। মেথির প্রাকৃতিক নির্যাস গলাকে শীতল করে ফেলে যার ফলে কাশি এবং ব্যথা নিয়ন্ত্রণে আসে।

৫. হজমে সাহায্য করে :

প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এক চামুচ মেথিদানা খেলে বিভিন্ন এ্যাসিড নিঃসরণ করে এবং বুকের জ্বালা করা কমায়। এর জন্য মেথি দানাকে প্রথমে পানিতে ভিজিয়ে রেখে তারপরে খাবার উপযুক্ত করতে হবে। এটি খেলে মেথিতে থাকা আঠা পাকস্থলী এবং নাড়ীতে চলে যায় এবং বিরক্তিকর গ্যাসট্রোইনটেস্টিনাল টিস্যুগুলোকে প্রশমিত করে। এছাড়া এটি দেহের ভেতরের ক্ষতিকর টক্সিনকে বের হয়ে যেতে সহায়তা করে। এর ফলে হজমক্রিয়া ভালোভাবে হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

Share This Post

Post Comment