প্রাচীন জিন ডায়াবেটিস – ডায়াবেটিসের আদ্যপান্ত

প্রাচীন জিন ডায়াবেটিস – ডায়াবেটিসের আদ্যপান্ত

ডায়াবেটিস!!! বলা হয়ে থাকে  ডায়াবেটিস আধুনিক যুগের রোগ। কিন্তু সত্যটা হচ্ছে, ডায়াবেটিস রোগটা অনেক আগে থেকেই ছিলো। কিন্তু এর ব্যপারে মানুষ জানতো না বলে তাকে শনাক্ত করতে পারতো না। ডায়াবেটিসের উৎপত্তির ব্যাপারে সম্প্রতিখুব অদ্ভুত একটা তথ্য জানা গেছে। মানব শরীরে ডায়াবেটিসের জন্য দায়ী একটি জিন শনাক্ত করতে পেরেছেন গবেষকেরা, এবং এই জিন সম্ভবত প্রাচীন নিয়ান্ডারথাল মানুষের থেকে আধুনিক মানুষের মাঝে এসেছে।

টাইপ টু ডায়াবেটিস মানুষের শরীরের এমন এক “কন্ডিশন” যার কারণে শরীর যথেষ্ট পরিমানে ইনসুলিন উৎপাদন করতে পারে না বা শরীরের কোষগুলো এই ইনসুলিন ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারে না। টাইপ টু ডায়াবেটিসের পেছনে অনেক কারন কাজ করে। খাদ্যভ্যাস, ব্যায়ামের অভ্যাস ইত্যাদি। এছাড়াও কোনও মানুষের এই রোগ হবে কি হবে না তা অনেক সময় নির্ভর করে জিনের ওপরে। কোনও এক অদ্ভুত কারণে স্প্যানিশ/ল্যাটিন মানুষের মাঝে এই জটিলতার পরিমান অনেক বেশি দেখা যায়। এর কারন খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা প্রাচীন এই জেনেটিক লিঙ্ক এর সন্ধান পান।

৮০০ জনেরও বেশি মেক্সিকান এবং অন্যান্য স্প্যানিশ/ল্যাটিন মানুষের ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হয় এই গবেষণায়। এর থেকে পাওয়া যায় সেসব জিন যেগুলো ইতোমধ্যেই ডায়াবেটিসের সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু একটা নতুন জিনও পাওয়া যায়। মানুষের শরীরে চর্বিজাতীয় পদার্থ ব্যবহারের সাথে যুক্ত রয়েছে এই জিন, আর এটা একজন মানুষের শরীরের থাকলে তার টাইপ টু ডায়াবেটিস হবার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় ২০ শতাংশের মতো। এই জিনের মিউটেশন রয়েছে প্রায় অর্ধেক স্প্যানিশ/ল্যাটিন মানুষের শরীরে। কিন্তু ইউরোপীয় শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে এই জিন দেখা যায় মাত্র শতাংশ। এ কারণে স্প্যানিশ/ল্যাটিন মানুষের মাঝে এই রোগ এত বেশি দেখা যায় আর ইউরোপীয়দের মাঝে তার তুলনায় অনেক কম দেখা যায়।

শুধু তাই নয়, এই গবেষণা থেকে আরও জানা যায়, এই জিন সম্ভবত নিয়ান্ডারথাল মানুষের থেকে এসেছে আধুনিক মানুষের মাঝে। এর মানে এই নয় যে নিয়ান্ডারথাল মানুষের ডায়াবেটিস হতো। এর মানে এটুকুই যে এই এই জিন অনেক অনেক প্রাচীন। এখন আমাদের চারপাশে যেসব টক্সিনের কারণে আমাদের ডায়াবেটিস হবার আশংকা বেশি থাকে, সে সময়ে এসব টক্সিনের উপস্থিতি ছিলো না এবং মানুষের জীবনযাত্রাও ছিলো অন্যরকম। এ কারণে তাদের মাঝে এই জিন থাকলেও তা কোনও ক্ষতি করতো না। এই প্রথম আধুনিক মানুষ এবং নিয়ান্ডারথাল মানুষের মাঝে কোনও রোগের একই জিন খুঁজে পাওয়া গেলো।

Share This Post

Post Comment