ড্রাই ফ্রুটসের গুণাগুণ

ড্রাই ফ্রুটসের গুণাগুণ

নানা ধরনের ফল যেমন স্বাভাবিক অবস্থায় খাওয়া যায়, তেমনি শুকিয়ে খাওয়া যায়। স্বাভাবিক ও কৃত্রিম দুভাবেই ফলের আর্দ্রতা দূর করে শুকানো হয় এসব ফল ও বাদাম। এই শুকনো ফল ও বাদামগুলো একত্রে ‘ড্রাই ফ্রুটস’ নামেই পরিচিত। এসব ড্রাই ফ্রুটসে রয়েছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, প্রোটিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় উপাদান। যা আপনার সুস্থ থাকার জন্যও যথেষ্ট প্রয়োজনীয়।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের ড্রাই ফ্রুটস পাওয়া যায় কিন্তু কাঠ বাদাম, কাজুবাদাম, কিসমিস, আখরোট, পেস্তা বাদাম—এগুলো সবচেয়ে জনপ্রিয়। বাইরের দেশে এগুলো স্ন্যাক্স হিসেবে অহরহ ব্যবহূত হয়, কিন্তু আমাদের দেশে খুব একটা জনপ্রিয়তা পায়নি। কিন্তু সৌন্দর্য থেকে স্বাস্থ্য রক্ষায়ও এর জুড়ি মেলা ভার। শুকনো ফল বা ড্রাই ফ্রুটস বিভিন্ন ভিটামিন, এসেন্সিয়াল ফ্যাট এবং অন্যান্য বিভিন্ন পুষ্টির একটি উচ্চ উত্স। আসুন জেনে নিই কিছু ড্রাই ফ্রুটসের গুণাগুণ—

ড্রাই ফ্রুটসের গুণাগুণঃ 

পেস্তাবাদাম- 

# পেস্তাবাদামে রয়েছে মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা কোলেস্টেরল কম রাখতে সাহায্য করে।
# পেস্তা লো-গ্লিসেমিক ইনডেক্স ধরনের খাবার। অর্থাত্ পেস্তা থেকে কার্বোহাইড্রেট ধীরে ধীরে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয়। ফলে রক্তে গ্লুকোজের ভারসাম্য বজায় থাকে।
# পেস্তাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-৬।
# নানা ধরনের বাদামের মধ্যে পেস্তাতে রয়েছে সবচেয়ে বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোস্টেরল। পেস্তাবাদামে লুটেন নামক এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা বয়সের কারণে সৃষ্ট নানা শারীরিক সমস্যা যেমন মাংসপেশির দুর্বলতা, চোখের ছানির সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে।
# পেস্তাবাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে। এতে ফ্যাটের পরিমাণও কম। ফলে রক্তে লিপিডের পরিমাণ বজায় রাখতে পেস্তা সাহায্য করে।
# দাঁতের রোগ ও লিভারের সমস্যায় পেস্তাবাদাম বেশ উপকারী।

কাঠবাদাম- 

# কাঠবাদাম ক্যালরির আধার। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঠবাদামে রয়েছে ৬৫৫ ক্যালরি।
# খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
# কাঠবাদাম ভিটামিন ই-এর অন্যতম উত্স।
# কাঠবাদামে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়তা করে।
# এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম।

কাজুবাদাম- 

# কাজুবাদামে রয়েছে স্বাস্থ্যকর মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট যা হূদক্রিয়া ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে গেলে হার্টের অসুখের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
# কাজুবাদামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকে সহজে বলিরেখা পড়তে দেয় না। এই বাদাম প্রচুর এনার্জি সরবরাহ করে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
# দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে কাজুবাদাম সাহায্য করে।
# কাজুবাদামে উপস্থিত ফাইবার ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

আখরোট- 

# আখরোটে রয়েছে প্রচুর ক্যালরি। প্রতি ১০০ গ্রাম আখরোটে ৬৮৭ ক্যালরি রয়েছে।
# এতে প্রচুর পরিমাণে উপকারি ফ্যাটি অ্যাসিড ওমেগা-৩ রয়েছে।
# আখরোট মস্তিষ্ক গঠনে সহায়তা করে। মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগও দূরে রাখে।
# আখরোট কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
# আখরোটে রয়েছে অ্যালার্জিক অ্যাসিড যা এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটা রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তোলে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

কিশমিশ- 

# দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর তাড়াতাড়ি সেরে উঠতে কিশমিশ সাহায্য করে।
# পানিতে ভেজানো কিশমিশ নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
# এতে রয়েছে প্রচুর এনার্জি। ক্লান্তি কাটাতে কিশমিশ সহায়তা করে।
# ওজন বাড়াতে চাইলে নিয়মিত কিশমিশ খান।

এপ্রিকট- 

# এপ্রিকটে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-বি২, ভিটামিন-বি৩, ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-সি রয়েছে।
# এপ্রিকটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, প্রোটিন ও উপকারী ফ্যাট।
# রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়িয়ে তুলে রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সাহায্য করে এপ্রিকট। যাদের মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় তাদের জন্য এপ্রিকট খুবই উপকারী।
# এপ্রিকটের পেকটিন ও সেলুলোজ পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত এপ্রিকট খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
# জ্বরের সময় এপ্রিকট পিষে মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

Share This Post

Post Comment