মানসিক চাপে মাথায় টাক, অকাল বার্ধক্য এবং ৫ সমাধান

মানসিক চাপে মাথায় টাক, অকাল বার্ধক্য এবং ৫ সমাধান

মানসিক চাপে মাথায় টাক, অকাল বার্ধক্য এবং ৫ সমাধান

আজকের পৃথিবীতে ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে মানুষকে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে হয়তো কর্মক্ষেত্রে একজনকে দুই বা তিনজনের দায়িত্ব সামাল দিতে হচ্ছে প্রতিদিন। দেশের সার্বিক উন্নয়নে গতি সঞ্চার হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ব্যক্তির ক্ষেত্রে তাতে তৈরি হচ্ছে মানসিক চাপ। চাপের কারণে স্বাভাবিকতা হারাচ্ছে মানুষ। সাফল্যের জন্য হালকা মানসিক চাপ মন্দ নয়। কিন্তু, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘটছে ব্যতিক্রম। অত্যধিক মানসিক চাপ দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর শারীরিক ও মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। আপনার ত্বক লাবণ্য, কমনীয়তা ও সৌন্দর্য হারিয়ে অকালে বুড়িয়ে যেতে পারে। অকালে বেশি চুল পড়তে পারে, এমনকি মাথায় পড়তে পারে টাক। মানসিক চাপের ফলে যে সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে, সেগুলো হলো:

১)    অ্যাকনি: ব্রণ জাতীয় এক ধরনের দানাদার বা দানাহীন ফুস্কুড়ি কিংবা কালো আঁচিল অ্যাকনি নামে পরিচিত। মুখে সাধারণত সমস্যাটি দেখা দিতে পারে। কারণ, মানসিক চাপের কারণে এক ধরনের বিশেষ হরমোন নিঃসরিত হয়। ত্বকে তৈলাক্ততা বেড়ে যায় এবং অ্যাকনির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।
২)    অকাল বার্ধক্য: মানসিক চাপে থাকা ব্যক্তিদের পৃথকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব। কারণ, বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার অনেক আগেই তাদের ত্বকে বলিরেখা ও ভাঁজ পড়ে, চোখের চারপাশে কালো দাগ পড়ে।
৩)    চুল পড়া ও টাক সমস্যা: মানসিক চাপের কারণে আমাদের শরীরের রক্তবাহী ধমনীগুলো সঙ্কুচিত হয়ে আসে এবং চুলের গোড়ায় বা গ্রন্থিকোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পৌঁছাতে পারে না, যা চুলের বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। ফলে, চুল পড়তে শুরু করে এবং অল্প বয়সেই টাক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মানসিক চাপ কমাতে জীবনযাপন পদ্ধতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। নিচে কার্যকর কয়েকটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হলো:

১) মালিশ: শরীর মালিশের মাধ্যমে দারুণ সুফল পাওয়া সম্ভব। কারণ, এতে আপনার শরীরের মাংসপেশীসমূহ শিথিল হয় এবং শরীরের শক্তি উৎপাদনকারী সব কোষসমূহ সক্রিয় হয়।
২) কিছুক্ষণ ব্যায়াম: ব্যায়াম আপনার শারীরিক সামর্থ্য বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মনকে চাঙ্গা ও উৎফুল্ল করবে। স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত থাকতে সাহায্য করবে। অতিরিক্ত মানসিক চাপের ধকলও কাটিয়ে ওঠার সামর্থ্য তৈরি হবে। সপ্তাহে ৪-৫ দিন নিয়মিত একটি সুনির্দিষ্ট সময়ে ৩০-৪৫ মিনিটের ব্যায়ামই যথেষ্ট।
৩) যোগাসন ও ধ্যানচর্চা: আত্মিক ও মানসিক প্রশান্তির জন্য প্রতিদিন কিছু যোগ ব্যায়ামের চর্চা করা উচিত। একই সঙ্গে ধ্যানে বসার চেষ্টাও করুন। এভাবে দিনের যে কোন সুবিধাজনক সময়ে ২৫-৩০ মিনিট ব্যয় করুন। এর ফলে আপনি যে কোন কাজে গভীরভাবে মনোনিবেশে সক্ষম হবেন এবং অবসাদ, ক্লান্তি ও মানসিক চাপ দূর হবে।
৪) সুষম খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত পানি পান: সুষম খাবারের একটি সাপ্তাহিক ও মাসিক তালিকা তৈরি করে সেটি অনুসরণ করুন। যে খাবারগুলো মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং যেগুলো চাপ বাড়ায়, সেগুলো চিহ্নিত করে সামঞ্জস্য আনুন তালিকায়। শরীরের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। তবে যারা শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন, তাদের ১০-১২ গ্লাস পানি পান করা উচিত। ভারি কোন কাজের পর পানি পানের আগে বিশ্রাম নেয়া জরুরি।
৫) ৮ ঘণ্টা ঘুম: রাতে কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা ঘুমের অভ্যাস করতে হবে। মানসিক চাপ কমাতে সুনিদ্রার কোন বিকল্প নেই। অনিদ্রা বা ঘুমের কোন সমস্যা থাকলে, তা মানুষের মেজাজকে রূক্ষ্ম ও খিটখিটে করে তোলে।

Share This Post

Post Comment